🌱 বায়োমাস শিল্প ডেস্ক
NTPC, DVC, WBPDCL-র বায়োমাস পেলেট টেন্ডার — SAMARTH ও GeM-এ বিক্রেতা নিবন্ধনের পথ
থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টে বায়োমাস পেলেট বিক্রির পূর্ণ পাইপলাইন — SAMARTH-এর ৫% কো-ফায়ারিং বাধ্যতামূলক নিয়ম, NTPC/DVC/WBPDCL-র টেন্ডার, GeM ও SAMARTH পোর্টালে নিবন্ধন, বিড কোটেশনের হিসেব এবং পশ্চিমবঙ্গের সরবরাহ-ফাঁক।
বায়োমাস পেলেট ব্যবসার সবচেয়ে বড় শক্তি — ক্রেতা আইনেই বাধ্য। পাওয়ার মন্ত্রকের SAMARTH মিশনের নিয়মে দেশের সব কয়লা-চালিত থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টকে কয়লার সঙ্গে ৫% (ধাপে ধাপে ১০% পর্যন্ত) বায়োমাস পেলেট কো-ফায়ার করতে হয়। ফলে NTPC, DVC, WBPDCL-র মতো সংস্থাগুলি বছরে লক্ষ লক্ষ টন পেলেটের টেন্ডার দেয়। কিন্তু বিক্রির পথ খুঁজে বের করা এই ব্যবসার সবচেয়ে ভুল-বোঝা অংশ — এই নির্দেশিকায় পুরো পাইপলাইনটা ধাপে ধাপে।
১. প্রথমে মানচিত্রটা বুঝুন: কারা কেনে, কোথায়
পশ্চিমবঙ্গ ও পাশের রাজ্যের ক্রেতা:
| ক্রেতা | প্ল্যান্ট | অবস্থান |
|---|---|---|
| WBPDCL | কোলাঘাট, বাক্রেশ্বর, সাগরদিঘী, সান্তালদিহ | পূর্ব-মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া |
| DVC | মেজিয়া, দুর্গাপুর, পানসেত ইত্যাদি | বাঁকুড়া-বর্ধমান-ঝাড়খণ্ড বলয় |
| NTPC | ফারাক্কা (মুর্শিদাবাদ) ও পাশের রাজ্যে | প্যান-ইন্ডিয়া টেন্ডার |
| অন্যান্য রাজ্য/বেসরকারি | বয়লার, চা-বাগান, সিমেন্ট, পেপার মিল | লোকাল বাজার |
সত্যিটা জানুন: SAMARTH-এর অধীনে এই প্ল্যান্টগুলির নাম ও টেন্ডার-লিঙ্ক সহ পূর্ণ তালিকা samarth.powermin.gov.in-এ প্রকাশ্য। আর বাস্তবতা হল — WBPDCL ও DVC বারবার কো-ফায়ারিং লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ টেন্ডারে বিদ্যমান সরবরাহকারীই যথেষ্ট নেই। এই সরবরাহ-ফাঁকই পশ্চিমবঙ্গের উদ্যোক্তার প্রকৃত সুযোগ — কিন্তু সুযোগ কাজে বদলাতে নিচের পথ জানা লাগবে।
২. নিবন্ধনের তিনটি দরজা
(ক) SAMARTH পোর্টাল
পাওয়ার মন্ত্রকের এই পোর্টালে পেলেট সরবরাহকারীরা নিজেদের নিবন্ধন করতে পারেন — প্ল্যান্টের ক্ষমতা, অবস্থান, পণ্যের ধরন (নন-টরেফায়েড/টরেফায়েড) জানিয়ে। প্ল্যান্টগুলি এখান থেকেই সরবরাহকারীর খোঁজ করে। বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু খোঁজা যায় এমন তালিকায় থাকা ফ্রি-র বিজ্ঞাপন।
(খ) GeM (Government e-Marketplace)
gem.gov.in-এ সরবরাহকারী হিসেবে নিবন্ধন করুন — GeM-এর বিড ও ডিরেক্ট ক্রয়ে পেলেটের টেন্ডারও ওঠে (NTPC-র বড় ক্রয়ের অনেকগুলিই GeM-মাধ্যম)। লাগবে: Udyam নিবন্ধন, PAN-GST, ব্যাংক বিবরণ। আমাদের Udyam নিবন্ধন গাইড এই ধাপে কাজে দেবে।
(গ) সংস্থা-ভিত্তিক টেন্ডার পোর্টাল
- NTPC: নিজস্ব e-procurement পোর্টালে (epsobjects/teps-মাধ্যম) ভেন্ডর রেজিস্ট্রেশন
- DVC: dvc.gov.in-এর টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি
- WBPDCL: wbpdcl.co.in-এর টেন্ডার অংশে নিয়মিত EOI (Expression of Interest) ও NIT ওঠে — ২০২২-এই দুটি পাওয়ার স্টেশনে পেলেট কো-ফায়ারিংয়ের EOI দিয়েছিল
সব ক্ষেত্রেই মূল কাগজ: Udyam/GST, প্ল্যান্টের মালিকানা-ক্ষমতার প্রমাণ, পণ্যের ল্যাব-টেস্ট রিপোর্ট (GCV, আর্দ্রতা, ছাই), EMD ও অতীত সরবরাহ-রেকর্ড (থাকলে বাড়তি সুবিধা)।
৩. বিডের হিসেব: দাম কীভাবে ঠিক করবেন
টেন্ডারে দাম দেওয়ার আগে চারটি খাত যোগ করুন:
- উৎপাদন খরচ: আনুমানিক ₹২,৭০০–৪,২০০/টন (খরচ-হিসেব নির্দেশিকা)
- পরিবহন: প্ল্যান্ট থেকে পাওয়ার প্ল্যান্টের দূরত্বে ট্রাক-ভাড়া — সাধারণত প্রতি টনে প্রতি কিমিতে ₹১.৫–২.৫; ২০০ কিমি মানেই প্রতি টনে ₹৩০০–৫০০ বেড়ে যায়। এই কারণেই পাওয়ার প্ল্যান্টের ১৫০–২০০ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে প্ল্যান্ট বানানো সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা।
- টেন্ডার-শর্তের খরচ: EMD, পারফরম্যান্স ব্যাংক গ্যারান্টি (PBGG), মাসভর লেটার-পেমেন্টের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল
- মার্জিন: শেষে যা থাকে সেটাই আপনার দর — বেশি দর দিলে হারবেন, খুব কম দিলে সরবরাহ করতে গিয়ে ডুববেন
বিডের সোনালি নিয়ম: টেন্ডারে সাধারণত বার্ষিক/দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ-কোটা থাকে (NTPC-র একটি টেন্ডারেই ২ লক্ষ+ টন)। নিজের প্ল্যান্টের বাস্তব বছরের উৎপাদনের (৫,০০০–২০,০০০ টন স্তরে) চেয়ে বড় কোটা জিতে নিয়ে সরবরাহ করতে না পারলে সুদণ্ড ও কালো তালিকাভুক্তি দুই-ই হয়। ছোট কোটা জেতা > বড় কোটায় ডোবা।
৪. বিক্রির বিকল্প পথ: লোকাল বাজার
থার্মাল টেন্ডারের অপেক্ষায় না থেকে এই ক্রেতারাও ভাবুন:
- চা-বাগান ও বয়লার শিল্প (দুয়ার্স, তরাই): জ্বালানি খরচ কমাতে পেলেটে স্থানান্তর চলছে
- হোটেল-ধাবা, বেকারি, পাঞ্জাবের মতো পার্লার নেটওয়ার্ক: ছোট কিন্তু নগদ-পেমেন্ট
- ব্রিকেট হিসেবে লোকাল বিক্রি: পেলেটের মেশিনারিই ব্রিকেটও বানাতে পারে — লোকাল ব্রিকেটের দাম কম কিন্তু পরিবহন-দূরত্বও ছোট
সুবিধা: নগদ, ছোট লট, কোনও টেন্ডার-শর্ত নেই। থার্মাল টেন্ডারের সঙ্গে এই ভিত্তি-বিক্রি মিলিয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবসায়িক মডেল।
৫. ধাপে ধাপে: প্রথম টেন্ডার পর্যন্ত
- প্ল্যান্ট চালু ও মান যাচাই: নমুনার ল্যাব-রিপোর্ট (GCV প্রায় ৩,৫০০–৪,০০০ kcal/kg, আর্দ্রতা ≤১০–১২%, ছাই সীমার মধ্যে) — এটাই প্রবেশমুখী টিকিট।
- নিবন্ধন: SAMARTH + GeM + সংশ্লিষ্ট সংস্থার ভেন্ডর পোর্টাল — তিনটিই করুন।
- টেন্ডার মনিটরিং: SAMARTH তালিকার প্ল্যান্টগুলির টেন্ডার পাতা, GeM বিড এবং WBPDCL/DVC-র পোর্টাল সপ্তাহে একবার দেখুন।
- ছোট দিয়ে শুরু: প্রথম ২–৩টি সরবরাহে লাভ কম হলেও সরবরাহ-রেকর্ড বানান — পরের টেন্ডারে এই রেকর্ডই ভেন্ডর-ক্রেডিবিলিটি।
- দূরত্ব হিসেব করে বিড: পরিবহন-খরচ গণনা করে তবেই দর জমা দিন — দূরের প্ল্যান্টে সস্তা দরে জিতলেও সরবরাহে লোকসান।
❓ সাধারণ প্রশ্ন
পেলেট প্ল্যান্ট চালু না করেও কি টেন্ডারে বিড করা যায়?
মানসিকভাবে ভুল — টেন্ডারে সাধারণত EMD, অতীত সরবরাহের অভিজ্ঞতা বা উৎপাদন-ক্ষমতার প্রমাণ এবং নমুনা পরীক্ষার শর্ত থাকে। অন্তত প্ল্যান্ট চালু ও পণ্যের নমুনা মান পূরণ ছাড়া বিড গ্রহণযোগ্য হয় না। প্রথমে লোকাল ছোট ক্রেতায় সরবরাহ-রেকর্ড বানিয়ে তবেই বড় টেন্ডারে নামুন।
কো-ফায়ারিং বাধ্যতামূলক হলে প্ল্যান্ট কি কেনার জন্য খোঁজে?
হ্যাঁ, এটাই এই ব্যবসার ভিত্তি — কিন্তু 'খোঁজে' মানে টেন্ডার জিততে হয়, দরপত্রের দাম-দূরত্ব-সময়সূচির শর্তে। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি হল চাহিদা আছে কিন্তু স্থানীয় সরবরাহকারী কম — এজন্যই WBPDCL ও DVC-র টেন্ডার বারবার শূন্য বা কম-সাড়া থাকে।