মূল বিষয়বস্তুতে যান
বাংলাEN

🌱 বায়োমাস শিল্প ডেস্ক

NTPC, DVC, WBPDCL-র বায়োমাস পেলেট টেন্ডার — SAMARTH ও GeM-এ বিক্রেতা নিবন্ধনের পথ

থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টে বায়োমাস পেলেট বিক্রির পূর্ণ পাইপলাইন — SAMARTH-এর ৫% কো-ফায়ারিং বাধ্যতামূলক নিয়ম, NTPC/DVC/WBPDCL-র টেন্ডার, GeM ও SAMARTH পোর্টালে নিবন্ধন, বিড কোটেশনের হিসেব এবং পশ্চিমবঙ্গের সরবরাহ-ফাঁক।

🗓️ প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬✏️ আপডেট: ১ অক্টোবর, ২০২৬🛡️ যাচাইকৃত: ১ অক্টোবর, ২০২৬📖 ৪ মিনিট পড়া

বায়োমাস পেলেট ব্যবসার সবচেয়ে বড় শক্তি — ক্রেতা আইনেই বাধ্য। পাওয়ার মন্ত্রকের SAMARTH মিশনের নিয়মে দেশের সব কয়লা-চালিত থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টকে কয়লার সঙ্গে ৫% (ধাপে ধাপে ১০% পর্যন্ত) বায়োমাস পেলেট কো-ফায়ার করতে হয়। ফলে NTPC, DVC, WBPDCL-র মতো সংস্থাগুলি বছরে লক্ষ লক্ষ টন পেলেটের টেন্ডার দেয়। কিন্তু বিক্রির পথ খুঁজে বের করা এই ব্যবসার সবচেয়ে ভুল-বোঝা অংশ — এই নির্দেশিকায় পুরো পাইপলাইনটা ধাপে ধাপে।


১. প্রথমে মানচিত্রটা বুঝুন: কারা কেনে, কোথায়

পশ্চিমবঙ্গ ও পাশের রাজ্যের ক্রেতা:

ক্রেতা প্ল্যান্ট অবস্থান
WBPDCL কোলাঘাট, বাক্রেশ্বর, সাগরদিঘী, সান্তালদিহ পূর্ব-মেদিনীপুর, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, পুরুলিয়া
DVC মেজিয়া, দুর্গাপুর, পানসেত ইত্যাদি বাঁকুড়া-বর্ধমান-ঝাড়খণ্ড বলয়
NTPC ফারাক্কা (মুর্শিদাবাদ) ও পাশের রাজ্যে প্যান-ইন্ডিয়া টেন্ডার
অন্যান্য রাজ্য/বেসরকারি বয়লার, চা-বাগান, সিমেন্ট, পেপার মিল লোকাল বাজার

সত্যিটা জানুন: SAMARTH-এর অধীনে এই প্ল্যান্টগুলির নাম ও টেন্ডার-লিঙ্ক সহ পূর্ণ তালিকা samarth.powermin.gov.in-এ প্রকাশ্য। আর বাস্তবতা হল — WBPDCL ও DVC বারবার কো-ফায়ারিং লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ টেন্ডারে বিদ্যমান সরবরাহকারীই যথেষ্ট নেই। এই সরবরাহ-ফাঁকই পশ্চিমবঙ্গের উদ্যোক্তার প্রকৃত সুযোগ — কিন্তু সুযোগ কাজে বদলাতে নিচের পথ জানা লাগবে।

২. নিবন্ধনের তিনটি দরজা

(ক) SAMARTH পোর্টাল

পাওয়ার মন্ত্রকের এই পোর্টালে পেলেট সরবরাহকারীরা নিজেদের নিবন্ধন করতে পারেন — প্ল্যান্টের ক্ষমতা, অবস্থান, পণ্যের ধরন (নন-টরেফায়েড/টরেফায়েড) জানিয়ে। প্ল্যান্টগুলি এখান থেকেই সরবরাহকারীর খোঁজ করে। বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু খোঁজা যায় এমন তালিকায় থাকা ফ্রি-র বিজ্ঞাপন।

(খ) GeM (Government e-Marketplace)

gem.gov.in-এ সরবরাহকারী হিসেবে নিবন্ধন করুন — GeM-এর বিড ও ডিরেক্ট ক্রয়ে পেলেটের টেন্ডারও ওঠে (NTPC-র বড় ক্রয়ের অনেকগুলিই GeM-মাধ্যম)। লাগবে: Udyam নিবন্ধন, PAN-GST, ব্যাংক বিবরণ। আমাদের Udyam নিবন্ধন গাইড এই ধাপে কাজে দেবে।

(গ) সংস্থা-ভিত্তিক টেন্ডার পোর্টাল

  • NTPC: নিজস্ব e-procurement পোর্টালে (epsobjects/teps-মাধ্যম) ভেন্ডর রেজিস্ট্রেশন
  • DVC: dvc.gov.in-এর টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি
  • WBPDCL: wbpdcl.co.in-এর টেন্ডার অংশে নিয়মিত EOI (Expression of Interest) ও NIT ওঠে — ২০২২-এই দুটি পাওয়ার স্টেশনে পেলেট কো-ফায়ারিংয়ের EOI দিয়েছিল

সব ক্ষেত্রেই মূল কাগজ: Udyam/GST, প্ল্যান্টের মালিকানা-ক্ষমতার প্রমাণ, পণ্যের ল্যাব-টেস্ট রিপোর্ট (GCV, আর্দ্রতা, ছাই), EMD ও অতীত সরবরাহ-রেকর্ড (থাকলে বাড়তি সুবিধা)।

৩. বিডের হিসেব: দাম কীভাবে ঠিক করবেন

টেন্ডারে দাম দেওয়ার আগে চারটি খাত যোগ করুন:

  1. উৎপাদন খরচ: আনুমানিক ₹২,৭০০–৪,২০০/টন (খরচ-হিসেব নির্দেশিকা)
  2. পরিবহন: প্ল্যান্ট থেকে পাওয়ার প্ল্যান্টের দূরত্বে ট্রাক-ভাড়া — সাধারণত প্রতি টনে প্রতি কিমিতে ₹১.৫–২.৫; ২০০ কিমি মানেই প্রতি টনে ₹৩০০–৫০০ বেড়ে যায়। এই কারণেই পাওয়ার প্ল্যান্টের ১৫০–২০০ কিমি ব্যাসার্ধের মধ্যে প্ল্যান্ট বানানো সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা।
  3. টেন্ডার-শর্তের খরচ: EMD, পারফরম্যান্স ব্যাংক গ্যারান্টি (PBGG), মাসভর লেটার-পেমেন্টের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল
  4. মার্জিন: শেষে যা থাকে সেটাই আপনার দর — বেশি দর দিলে হারবেন, খুব কম দিলে সরবরাহ করতে গিয়ে ডুববেন

বিডের সোনালি নিয়ম: টেন্ডারে সাধারণত বার্ষিক/দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ-কোটা থাকে (NTPC-র একটি টেন্ডারেই ২ লক্ষ+ টন)। নিজের প্ল্যান্টের বাস্তব বছরের উৎপাদনের (৫,০০০–২০,০০০ টন স্তরে) চেয়ে বড় কোটা জিতে নিয়ে সরবরাহ করতে না পারলে সুদণ্ড ও কালো তালিকাভুক্তি দুই-ই হয়। ছোট কোটা জেতা > বড় কোটায় ডোবা।

৪. বিক্রির বিকল্প পথ: লোকাল বাজার

থার্মাল টেন্ডারের অপেক্ষায় না থেকে এই ক্রেতারাও ভাবুন:

  • চা-বাগান ও বয়লার শিল্প (দুয়ার্স, তরাই): জ্বালানি খরচ কমাতে পেলেটে স্থানান্তর চলছে
  • হোটেল-ধাবা, বেকারি, পাঞ্জাবের মতো পার্লার নেটওয়ার্ক: ছোট কিন্তু নগদ-পেমেন্ট
  • ব্রিকেট হিসেবে লোকাল বিক্রি: পেলেটের মেশিনারিই ব্রিকেটও বানাতে পারে — লোকাল ব্রিকেটের দাম কম কিন্তু পরিবহন-দূরত্বও ছোট

সুবিধা: নগদ, ছোট লট, কোনও টেন্ডার-শর্ত নেই। থার্মাল টেন্ডারের সঙ্গে এই ভিত্তি-বিক্রি মিলিয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবসায়িক মডেল।

৫. ধাপে ধাপে: প্রথম টেন্ডার পর্যন্ত

  1. প্ল্যান্ট চালু ও মান যাচাই: নমুনার ল্যাব-রিপোর্ট (GCV প্রায় ৩,৫০০–৪,০০০ kcal/kg, আর্দ্রতা ≤১০–১২%, ছাই সীমার মধ্যে) — এটাই প্রবেশমুখী টিকিট।
  2. নিবন্ধন: SAMARTH + GeM + সংশ্লিষ্ট সংস্থার ভেন্ডর পোর্টাল — তিনটিই করুন।
  3. টেন্ডার মনিটরিং: SAMARTH তালিকার প্ল্যান্টগুলির টেন্ডার পাতা, GeM বিড এবং WBPDCL/DVC-র পোর্টাল সপ্তাহে একবার দেখুন।
  4. ছোট দিয়ে শুরু: প্রথম ২–৩টি সরবরাহে লাভ কম হলেও সরবরাহ-রেকর্ড বানান — পরের টেন্ডারে এই রেকর্ডই ভেন্ডর-ক্রেডিবিলিটি।
  5. দূরত্ব হিসেব করে বিড: পরিবহন-খরচ গণনা করে তবেই দর জমা দিন — দূরের প্ল্যান্টে সস্তা দরে জিতলেও সরবরাহে লোকসান।

❓ সাধারণ প্রশ্ন

পেলেট প্ল্যান্ট চালু না করেও কি টেন্ডারে বিড করা যায়?

মানসিকভাবে ভুল — টেন্ডারে সাধারণত EMD, অতীত সরবরাহের অভিজ্ঞতা বা উৎপাদন-ক্ষমতার প্রমাণ এবং নমুনা পরীক্ষার শর্ত থাকে। অন্তত প্ল্যান্ট চালু ও পণ্যের নমুনা মান পূরণ ছাড়া বিড গ্রহণযোগ্য হয় না। প্রথমে লোকাল ছোট ক্রেতায় সরবরাহ-রেকর্ড বানিয়ে তবেই বড় টেন্ডারে নামুন।

কো-ফায়ারিং বাধ্যতামূলক হলে প্ল্যান্ট কি কেনার জন্য খোঁজে?

হ্যাঁ, এটাই এই ব্যবসার ভিত্তি — কিন্তু 'খোঁজে' মানে টেন্ডার জিততে হয়, দরপত্রের দাম-দূরত্ব-সময়সূচির শর্তে। পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি হল চাহিদা আছে কিন্তু স্থানীয় সরবরাহকারী কম — এজন্যই WBPDCL ও DVC-র টেন্ডার বারবার শূন্য বা কম-সাড়া থাকে।

← সব বায়োমাস গাইড