আলিপুরদুয়ার পশ্চিমবঙ্গের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে, ডুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত একটি জেলা। চা-বাগান, বনাঞ্চল ও জাতীয় উদ্যান ঘেরা এই জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো মূলত জেলা সদর আলিপুরদুয়ার শহরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। জেলা হাসপাতাল ছাড়াও ফালাকাটা, মাদারিহাট ও কালচিনিতে রাজ্য ও গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে, যা চা-বাগান অঞ্চল ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক চিকিৎসার চাহিদা মেটায়। দূরগামী গ্রামগুলিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপ-কেন্দ্র স্বাস্থ্যপরিষেবা পৌঁছে দেয়।
প্রধান হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র
| হাসপাতাল | ধরন | অবস্থান | ফোন |
|---|---|---|---|
| আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতাল | জেলা হাসপাতাল | আলিপুরদুয়ার | — |
| ফালাকাটা স্টেট জেনারেল হাসপাতাল | রাজ্য হাসপাতাল | ফালাকাটা | 7679369712 |
| মাদারিহাট রুরাল হাসপাতাল | গ্রামীণ হাসপাতাল | মাদারিহাট | — |
| কালচিনি রুরাল হাসপাতাল | গ্রামীণ হাসপাতাল | কালচিনি | — |
জেলা হাসপাতালই এই জেলার প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র — জরুরি বিভাগ, শল্যচিকিৎসা, প্রসূতি ও শিশু বিভাগ সহ বিভিন্ন সেবা এখানে পাওয়া যায়। জটিল রোগের ক্ষেত্রে উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেকে জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ির মেডিকেল কলেজে যেতে হয়, তাই জরুরি অবস্থায় দ্রুত রেফারেল ব্যবস্থা জানা থাকা জরুরি।
জরুরি নম্বর
- পুলিশ: ১০০
- অ্যাম্বুলেন্স: ১০৮
- ফায়ার: ১০১
- কেওয়াইসি (নারী ও শিশু সহায়তা): ১০৭৮
জরুরি পরিবহনের জন্য রাজ্য সরকারের ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জেলাজুড়ে সক্রিয়। রাতে বা দূরের গ্রামাঞ্চল থেকে রোগী নিয়ে যাওয়ার সময় এই নম্বরে আগে থেকেই যোগাযোগ করে রাখা ভালো।
স্বাস্থ্য সেবা ও সুবিধা
- স্বাস্থ্য সাথী কার্ড: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বাস্থ্য সাথী যোজনার আওতায় আলিপুরদুয়ারের মানুষও সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে বা সম্মানী হারে চিকিৎসার সুবিধা পান। কাছাকাছি ব্লক স্বাস্থ্য দফতর বা ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রে কার্ড নবীকরণ ও সংশোধন করা যায়।
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র: মাদারিহাট-বিরপাড়া, আলিপুরদুয়ার ১, আলিপুরদুয়ার ২, কালচিনি, ফালাকাটা ও কুমারগ্রাম ব্লকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপ-কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে পরামর্শ, ওষুধ ও প্রাথমিক পরীক্ষা পাওয়া যায়।
- টিকাকরণ: শিশু ও মায়েদের জন্য নিয়মিত টিকাকরণ কর্মসূচি, ভিটামিন এ ক্যাপসুল এবং অ্যানিমিয়া প্রতিরোধের কর্মসূচি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও আঙনওয়াড়ি কেন্দ্রে চলে।
- মাতৃস্বাস্থ্য: গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত পরীক্ষা, প্রসবপূর্ব ও প্রসবোত্তর যত্ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের জন্য উৎসাহ দেওয়া হয় — এর ফলে মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হ্রাস পেয়েছে।
- রোগ নিয়ন্ত্রণ: ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও কালাজ্বর প্রতিরোধে বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ তদারকি ও সচেতনতা প্রচার চালানো হয়। জ্বর এলে দেরি না করে পরীক্ষা করানো জরুরি।
স্বাস্থ্যকর পরামর্শ
- বর্ষাকালে জমা জল নিষ্কাশন করুন — ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি কমবে।
- প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন ও সবুজ শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস রাখুন।
- উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকলে নিয়মিত রক্তচাপ ও সুগার পরীক্ষা করান।
- চা-বাগানে কাজ করলে জৈব-নিরাপত্তা মেনে চলুন এবং কীটনাশক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
- জরুরি নম্বরগুলি মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখুন — প্রয়োজনে সময় বাঁচবে।