কোচবিহার পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে, বাংলাদেশ ও আসাম সীমান্তঘেঁষা একটি জেলা। রাজবংশের ঐতিহ্য বহন করা এই জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে এমজেএন হাসপাতাল ও কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। দিনহাটা ও মঠাভাঙার মহকুমা হাসপাতাল জেলার উত্তর-পূর্ব অংশের মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসাস্থল। জলাভূমি ও নদীবিধৌত গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপ-কেন্দ্র সেবা পৌঁছে দেয়।
প্রধান হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র
| হাসপাতাল | ধরন | অবস্থান | ফোন |
|---|---|---|---|
| এমজেএন হাসপাতাল (মহারাজা নৃপেন্দ্র নারায়ণ) | জেলা হাসপাতাল | কোচবিহার | 03582-228779 |
| কোচবিহার সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল | মেডিকেল কলেজ | কোচবিহার | — |
| দিনহাটা মহকুমা হাসপাতাল | মহকুমা হাসপাতাল | দিনহাটা | 03581-255002 |
| মঠাভাঙা মহকুমা হাসপাতাল | মহকুমা হাসপাতাল | মঠাভাঙা | 03583-255261 |
এমজেএন হাসপাতাল জেলার প্রাচীনতম ও প্রধান হাসপাতাল — জরুরি বিভাগ, প্রসূতি, শিশু ও শল্যচিকিৎসা সেবা এখানে পাওয়া যায়। মেডিকেল কলেজ চালু হওয়ার পর থেকে জেলার মানুষ ঘরের কাছেই উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সুবিধা পাচ্ছেন — আগে যেটির জন্য শিলিগুড়ি যেতে হতো।
জরুরি নম্বর
- পুলিশ: ১০০
- অ্যাম্বুলেন্স: ১০৮
- ফায়ার: ১০১
- কেওয়াইসি (নারী ও শিশু সহায়তা): ১০৭৮
১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জেলার সব ব্লকে সক্রিয়। সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলের গ্রাম থেকে রোগী নিয়ে আসার পথ দীর্ঘ — তাই জরুরি অবস্থায় আগেই অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা জরুরি।
স্বাস্থ্য সেবা ও সুবিধা
- স্বাস্থ্য সাথী কার্ড: স্বাস্থ্য সাথী যোজনার আওতায় কোচবিহারের পরিবারগুলি সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পান। কার্ড সংশোধন ও নবীকরণ ব্লক স্বাস্থ্য দফতর বা ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রে করা যায়।
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র: জেলার ১২টি ব্লকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপ-কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে পরামর্শ, ওষুধ ও প্রাথমিক পরীক্ষার সুবিধা পাওয়া যায়।
- টিকাকরণ: শিশু ও মায়েদের নিয়মিত টিকাকরণ এবং ভিটামিন এ কর্মসূচি ব্লক ও আঙনওয়াড়ি স্তরে চলে।
- মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য: প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব ও প্রসবোত্তর যত্নে জোর দেওয়া হয়; দূরের গ্রামে মা-শিশু পরিবহণে সহায়তার ব্যবস্থাও আছে।
- রোগ নিয়ন্ত্রণ: ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে নিয়মিত জরিপ, বিনামূল্যে পরীক্ষা ও সচেতনতা প্রচার চলে। জলাভূমি এলাকায় মশার কামড় এড়ানো বিশেষভাবে জরুরি।
- চিকিৎসা শিবির: জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সরকারি উদ্যোগে চক্ষু ও সাধারণ চিকিৎসা শিবির আয়োজিত হয়।
স্বাস্থ্যকর পরামর্শ
- বর্ষাকালে জমা জল সাফ করুন ও মশারি ব্যবহার করুন — জলাভূমি অঞ্চলে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি বেশি।
- বিশুদ্ধ পান করুন ও খাবার আগে হাত ধুয়ে নিন — ডায়রিয়া প্রতিরোধের সহজ উপায়।
- প্রতিদিন হাঁটুন ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস রাখুন।
- ৪০ পার হলে বছরে অন্তত একবার রক্তচাপ ও সুগার পরীক্ষা করান।
- জরুরি নম্বরগুলি মোবাইলে সেভ করে রাখুন ও পরিবারকেও জানিয়ে রাখুন।