দক্ষিণ দিনাজপুর পশ্চিমবঙ্গের উত্তরে, বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া একটি কৃষিপ্রধান জেলা। জেলা সদর বালুরঘাটের জেলা হাসপাতালই এই অঞ্চলের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র। গঙ্গারামপুরের মহকুমা হাসপাতাল ও বুনিয়াদপুরের রাজ্য হাসপাতাল জেলার অন্যান্য অংশের মানুষের কাছাকাছি সেবা নিশ্চিত করে। সীমান্তবর্তী গ্রামাঞ্চলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপ-কেন্দ্র প্রাথমিক চিকিৎসা পৌঁছে দেয়, আর জটিল রোগের ক্ষেত্রে মালদা বা শিলিগুড়ির উন্নত হাসপাতালে রেফার করা হয়।
প্রধান হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র
| হাসপাতাল | ধরন | অবস্থান | ফোন |
|---|---|---|---|
| বালুরঘাট জেলা হাসপাতাল | জেলা হাসপাতাল | বালুরঘাট | 7076686320 |
| গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতাল | মহকুমা হাসপাতাল | গঙ্গারামপুর | 9434055746 |
| বুনিয়াদপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল | রাজ্য হাসপাতাল | বুনিয়াদপুর | — |
বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে জরুরি বিভাগ, প্রসূতি, শিশু ও শল্যচিকিৎসা সেবা পাওয়া যায়। গঙ্গারামপুর মহকুমা হাসপাতাল জেলার দক্ষিণ-পূর্ব অংশের বৃহত্তম হাসপাতাল, আর বুনিয়াদপুরের হাসপাতাল হরিপুর-বাংশীহারী অঞ্চলের সেবা মেটায়।
জরুরি নম্বর
- পুলিশ: ১০০
- অ্যাম্বুলেন্স: ১০৮
- ফায়ার: ১০১
- কেওয়াইসি (নারী ও শিশু সহায়তা): ১০৭৮
১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জেলার সব ব্লকে সক্রিয়। সীমান্ত গ্রাম থেকে বালুরঘাটে আসার পথ দীর্ঘ, তাই জরুরি অবস্থায় আগেই অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে নেওয়া ভালো।
স্বাস্থ্য সেবা ও সুবিধা
- স্বাস্থ্য সাথী কার্ড: দক্ষিণ দিনাজপুরের পরিবারগুলিও স্বাস্থ্য সাথী যোজনার আওতায় সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পান। কার্ড সংশোধন বা নবীকরণের জন্য ব্লক স্বাস্থ্য দফতর বা ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র: বালুরঘাট, গঙ্গারামপুর, কুমারগঞ্জ, তপন, হরিপুর-রামচন্দ্রপুর ও বাংশীহারী ব্লকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপ-কেন্দ্র রয়েছে — বিনামূল্যে পরামর্শ, ওষুধ ও প্রাথমিক পরীক্ষার সুবিধা সহ।
- টিকাকরণ: শিশু ও মায়েদের নিয়মিত টিকাকরণ, ভিটামিন এ ও অ্যানিমিয়া প্রতিরোধের কর্মসূচি ব্লক ও আঙনওয়াড়ি স্তরে চলে।
- মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য: প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব, প্রসবপূর্ব পরীক্ষা ও পুষ্টি সহায়তায় জোর দেওয়া হয়। দূরের গ্রামে মা-শিশু পরিবহণে সহায়তার ব্যবস্থা আছে।
- রোগ নিয়ন্ত্রণ: ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে নিয়মিত জরিপ ও বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা নির্মূল কর্মসূচিও চলমান।
- চিকিৎসা শিবির: জেলার গ্রামাঞ্চলে সরকারি ও এনজিও উদ্যোগে চক্ষু, দন্ত ও সাধারণ চিকিৎসা শিবির নিয়মিত আয়োজিত হয়।
স্বাস্থ্যকর পরামর্শ
- বর্ষাকালে জমা জল পরিষ্কার করুন ও মশারি ব্যবহার করুন।
- ফুটে ওঠা পানিতে না গিয়ে বিশুদ্ধ পান করুন — ডায়রিয়া প্রতিরোধে জরুরি।
- প্রতিদিন হাঁটুন, পর্যাপ্ত জল পান করুন ও সবুজ শাকসবজি খান।
- ৪০ বছরের পর বছরে অন্তত দু’বার রক্তচাপ ও সুগার পরীক্ষা করান।
- জরুরি নম্বরগুলি ঘরের সবার মোবাইলে সেভ করে রাখুন।