পূর্ব বর্ধমান বাংলার “ধানের ঝুড়ি” নামে পরিচিত কৃষিপ্রধান জেলা, যার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো রাজ্যের মধ্যে প্রভূত উন্নত। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এই অঞ্চলের উন্নত চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র — কলকাতার বাইরে প্রতিষ্ঠিত পুরনো মেডিকেল কলেজগুলির এটি একটি। জেলা সদর ছাড়াও কালনা ও কাটোয়ার মতো মহকুমা শহরে হাসপাতাল রয়েছে, আর ২৩টি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লক জুড়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিস্তৃত জাল গ্রামীণ মানুষের সেবায় নিয়োজিত।
প্রধান হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র
| হাসপাতাল | ধরন | অবস্থান | ফোন |
|---|---|---|---|
| বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল | মেডিকেল কলেজ | বর্ধমান | 0342-2558646 |
| জেলা হাসপাতাল, বর্ধমান | জেলা হাসপাতাল | বর্ধমান | — |
| কালনা মহকুমা হাসপাতাল | মহকুমা হাসপাতাল | কালনা | 03454-255432 |
| কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল | মহকুমা হাসপাতাল | কাটোয়া | 03453-255060 |
বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল জেলার সবচেয়ে বড় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান — এখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, আইসিইউ, জরুরি বিভাগ ও উন্নত শল্যচিকিৎসার সুবিধা রয়েছে। কালনা ও কাটোয়ার মতো দূরের মহকুমা থেকে জটিল রোগীরা এই হাসপাতালে রেফার হন।
জরুরি নম্বর
- পুলিশ: ১০০
- অ্যাম্বুলেন্স: ১০৮
- ফায়ার: ১০১
- কেওয়াইসি (নারী ও শিশু সহায়তা): ১০৭৮
রাজ্য সরকারের ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জেলার শহর ও গ্রামে সক্রিয়। গ্রামীণ এলাকা থেকে রোগী নিয়ে আসার সময় আগেই অ্যাম্বুলেন্স বুক করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
স্বাস্থ্য সেবা ও সুবিধা
- স্বাস্থ্য সাথী কার্ড: স্বাস্থ্য সাথী যোজনার আওতায় পূর্ব বর্ধমানের প্রতিটি পরিবার সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পায়। ব্লক দফতর বা ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রে কার্ড সংশোধন করানো যায়।
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র: জেলার ২৩টি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে পরামর্শ, ওষুধ ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা পাওয়া যায়।
- টিকাকরণ: শিশুদের সম্পূর্ণ টিকাকরণ, টিটেনাস টিকা এবং ভিটামিন এ কর্মসূচি নিয়মিত চলে। বিশেষ টিকাকরণ দিবসে আঙনওয়াড়ি কেন্দ্রেও টিকা দেওয়া হয়।
- মাতৃ ও শিশু কল্যাণ: প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে উৎসাহ, প্রসবোত্তর যত্ন এবং কিশোরী স্বাস্থ্য কর্মসূচি ব্লক স্তরে পরিচালিত হয়।
- ডেঙ্গি ও মশা-নিয়ন্ত্রণ: বর্ষাকালে ডেঙ্গি প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশার প্রজনন রোধে পুরসভা ও ব্লক স্বাস্থ্যদফতরের প্রচারণা চলে — জমে থাকা জল নিয়মিত ফেলুন।
- চিকিৎসা শিবির: সরকারি ও এনজিও পর্যায়ে চক্ষু, দন্ত ও সাধারণ চিকিৎসা শিবির নিয়মিত আয়োজিত হয়।
স্বাস্থ্যকর পরামর্শ
- গরমকালে পর্যাপ্ত জল পান করুন — ক্ষেতে কাজ করা মানুষদের তাপে পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেশি।
- নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- ৪০ বছর পার হলে বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করান।
- ধূমপান ও তামাক খাওয়া ছাড়ুন — এটি ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্টের প্রধান কারণ।
- জরুরি নম্বরগুলি পরিবারের সবাই জেনে রাখুক।