মুর্শিদাবাদ পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম জনবহুল জেলা, যেখানে প্রায় সত্তর লক্ষ মানুষ বাস করেন। ভাগীরথী নদী জেলাকে দুই ভাগে ভাগ করেছে — একপাশে বহরমপুর ও লালবাগ, অন্যপাশে জঙ্গিপুর ও সমশেরগঞ্জ। এত বড় জনসংখ্যার স্বাস্থ্য পরিষেবা মেটাতে জেলায় মেডিকেল কলেজ, রাজ্য হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং ব্লক স্তরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বহরমপুরের মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল পুরো জেলার উন্নত চিকিৎসার প্রধান কেন্দ্র।
প্রধান হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র
| হাসপাতাল | ধরন | অবস্থান | ফোন |
|---|---|---|---|
| মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল | মেডিকেল কলেজ | বহরমপুর | 03482-274095 |
| বহরমপুর নিউ জেনারেল হাসপাতাল | রাজ্য হাসপাতাল | বহরমপুর | — |
| দোমকল মহকুমা হাসপাতাল | মহকুমা হাসপাতাল | দোমকল | — |
| জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতাল | মহকুমা হাসপাতাল | জঙ্গিপুর | — |
মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল জেলার বৃহত্তম চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান — এখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, জরুরি বিভাগ, আইসিইউ ও উন্নত শল্যচিকিৎসার সুবিধা রয়েছে। লালগোলা, সামশেরগঞ্জ বা ফরাক্কার মতো দূরবর্তী এলাকার জটিল রোগীদের প্রায়ই এখানে রেফার করা হয়। মহকুমা হাসপাতালগুলি নিজ নিজ এলাকায় জরুরি সেবা ও সাধারণ চিকিৎসার ভরসাস্থল।
জরুরি নম্বর
- পুলিশ: ১০০
- অ্যাম্বুলেন্স: ১০৮
- ফায়ার: ১০১
- কেওয়াইসি (নারী ও শিশু সহায়তা): ১০৭৮
রাজ্য সরকারের ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জেলার শহর ও গ্রামে সক্রিয়। নদীচ্যুত চরাঞ্চল বা দূরবর্তী গ্রাম থেকে রোগী নিয়ে আসার সময় আগেই অ্যাম্বুলেন্স বুক করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
স্বাস্থ্য সেবা ও সুবিধা
- স্বাস্থ্য সাথী কার্ড: স্বাস্থ্য সাথী যোজনার আওতায় জেলার প্রতিটি পরিবার সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পায়। ব্লক দফতর বা ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রে কার্ড সংশোধন করানো যায়।
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র: জেলার ২৬টি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে পরামর্শ, ওষুধ ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা পাওয়া যায়।
- টিকাকরণ: শিশুদের সম্পূর্ণ টিকাকরণ, টিটেনাস টিকা এবং ভিটামিন এ কর্মসূচি নিয়মিত চলে। বিশেষ টিকাকরণ দিবসে আঙনওয়াড়ি কেন্দ্রেও টিকা দেওয়া হয়।
- মাতৃ ও শিশু কল্যাণ: প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে উৎসাহ, প্রসবোত্তর যত্ন এবং কিশোরী স্বাস্থ্য কর্মসূচি ব্লক স্তরে পরিচালিত হয়।
- ওয়াটারবোর্ন রোগ প্রতিরোধ: নদী-অধ্যুষিত এই জেলায় বর্ষাকালে ডায়রিয়া ও টাইফয়েড সচেতনতা কর্মসূচি গুরুত্ব পায় — ফুটন্ত জল পান করা উচিত।
- চিকিৎসা শিবির: সরকারি ও এনজিও পর্যায়ে চক্ষু, দন্ত ও সাধারণ চিকিৎসা শিবির নিয়মিত আয়োজিত হয়।
স্বাস্থ্যকর পরামর্শ
- বর্ষাকালে ফোড়ন-করা জল পান করুন — জলজ রোগের ঝুঁকি কমবে।
- নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- ৪০ বছর পার হলে বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করান।
- ধূমপান ও তামাক খাওয়া ছাড়ুন — এটি ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্টের প্রধান কারণ।
- জরুরি নম্বরগুলি পরিবারের সবাই জেনে রাখুক।