নদিয়া জেলা হুগলি ও জলঙ্গী নদীর তীর ঘেঁষে বিস্তৃত, যেখানে প্রায় একান্ন লক্ষের বেশি মানুষ বাস করেন। জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো রাজ্যের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য — কল্যাণীতে এইমস এবং মেডিসিন কলেজ ও জেএনএম হাসপাতাল এই অঞ্চলকে উন্নত চিকিৎসার কেন্দ্র করে তুলেছে। জেলা সদর কৃষ্ণনগরে রাজ্য জেনারেল হাসপাতাল রয়েছে, আর রানাঘাট, তেহট্টের মতো মহকুমা শহর ও ১৭টি ব্লকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জাল বিস্তৃত।
প্রধান হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র
| হাসপাতাল | ধরন | অবস্থান | ফোন |
|---|---|---|---|
| এমএমইসি ও জেএনএম হাসপাতাল, কল্যাণী | মেডিকেল কলেজ | কল্যাণী | — |
| এইমস কল্যাণী | সুপার স্পেশালিটি | কল্যাণী | — |
| কৃষ্ণনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল | রাজ্য হাসপাতাল | কৃষ্ণনগর | — |
| রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল | মহকুমা হাসপাতাল | রানাঘাট | — |
কল্যাণীর এইমস পূর্ব ভারতের অন্যতম আধুনিক সুপার স্পেশালিটি প্রতিষ্ঠান, যেখানে জটিল রোগের চিকিৎসা ও গবেষণার সুবিধা রয়েছে। মেডিসিন কলেজ ও জেএনএম হাসপাতাল স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষাসহ বহুমুখী চিকিৎসা সেবা দেয়। কৃষ্ণনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল জেলা সদরের প্রধান ভরসাস্থল, আর রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল নামখানা–হরিঙ্ঘাটা অঞ্চলের মানুষের কাছের সেবা নিশ্চিত করে।
জরুরি নম্বর
- পুলিশ: ১০০
- অ্যাম্বুলেন্স: ১০৮
- ফায়ার: ১০১
- কেওয়াইসি (নারী ও শিশু সহায়তা): ১০৭৮
রাজ্য সরকারের ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জেলার শহর ও গ্রামে সক্রিয়। তেহট্ট বা করিমপুরের মতো দূরবর্তী ব্লক থেকে রোগী নিয়ে আসার সময় আগেই অ্যাম্বুলেন্স বুক করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
স্বাস্থ্য সেবা ও সুবিধা
- স্বাস্থ্য সাথী কার্ড: স্বাস্থ্য সাথী যোজনার আওতায় জেলার প্রতিটি পরিবার সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পায়। ব্লক দফতর বা ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রে কার্ড সংশোধন করানো যায়।
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র: জেলার ১৭টি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে পরামর্শ, ওষুধ ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা পাওয়া যায়।
- টিকাকরণ: শিশুদের সম্পূর্ণ টিকাকরণ, টিটেনাস টিকা এবং ভিটামিন এ কর্মসূচি নিয়মিত চলে। বিশেষ টিকাকরণ দিবসে আঙনওয়াড়ি কেন্দ্রেও টিকা দেওয়া হয়।
- মাতৃ ও শিশু কল্যাণ: প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে উৎসাহ, প্রসবোত্তর যত্ন এবং কিশোরী স্বাস্থ্য কর্মসূচি ব্লক স্তরে পরিচালিত হয়।
- সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ: নদী-জলাভূমি অধ্যুষিত এই জেলায় বর্ষাকালে ডেঙ্গি ও ডায়রিয়া প্রতিরোধে সচেতনতা কর্মসূচি গুরুত্ব পায়।
- চিকিৎসা শিবির: সরকারি ও এনজিও পর্যায়ে চক্ষু, দন্ত ও সাধারণ চিকিৎসা শিবির নিয়মিত আয়োজিত হয়।
স্বাস্থ্যকর পরামর্শ
- ডেঙ্গি মৌসুমে জমা জল ধরে রাখবেন না এবং মশারি ব্যবহার করুন।
- নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- ৪০ বছর পার হলে বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করান।
- ধূমপান ও তামাক খাওয়া ছাড়ুন — এটি ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্টের প্রধান কারণ।
- জরুরি নম্বরগুলি পরিবারের সবাই জেনে রাখুক।