উত্তর ২৪ পরগনা রাজ্যের সবচেয়ে জনবহুল জেলা, যেখানে প্রায় এক কোটি মানুষ বাস করেন। কলকাতার ঠিক উত্তরে থাকা এই জেলার এক প্রান্তে সল্টলেক ও মেট্রো-যুক্ত শহরতলি, অন্য প্রান্তে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ গ্রাম। এত বড় জনসংখ্যার স্বাস্থ্য পরিষেবা দিতে জেলায় জেলা হাসপাতাল, রাজ্য হাসপাতাল, মহকুমা হাসপাতাল এবং ব্লক স্তরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে — আশেপাশে কলকাতার উন্নত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানও কাছের সাপোর্ট।
প্রধান হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র
| হাসপাতাল | ধরন | অবস্থান | ফোন |
|---|---|---|---|
| বারাসাত জেলা হাসপাতাল | জেলা হাসপাতাল | বারাসাত | 033-25523228 |
| বিএন বোস হাসপাতাল | রাজ্য হাসপাতাল | ব্যারাকপুর | — |
| ভাটপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল | রাজ্য হাসপাতাল | ভাটপাড়া | — |
| বসিরহাট মহকুমা হাসপাতাল | মহকুমা হাসপাতাল | বসিরহাট | — |
বারাসাত জেলা হাসপাতাল জেলা সদরের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্র — জরুরি বিভাগ, বিশেষজ্ঞ সেবা ও শল্যচিকিৎসার সুবিধা রয়েছে। ব্যারাকপুর ও ভাটপাড়ার রাজ্য হাসপাতাল দুটি ঘনবসতিপূর্ণ শিল্প-শহরতলি অঞ্চলের ভরসাস্থল, আর বসিরহাট মহকুমা হাসপাতাল সুন্দরবন-সংলগ্ন হাসনাবাদ, সান্দেশখালি এলাকার মানুষের কাছের সেবা দেয়।
জরুরি নম্বর
- পুলিশ: ১০০
- অ্যাম্বুলেন্স: ১০৮
- ফায়ার: ১০১
- কেওয়াইসি (নারী ও শিশু সহায়তা): ১০৭৮
রাজ্য সরকারের ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জেলার শহর ও গ্রামে সক্রিয়। সুন্দরবন ফ্রিঞ্জের দ্বীপগ্রাম থেকে রোগী নিয়ে আসার সময় আগেই অ্যাম্বুলেন্স বুক করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
স্বাস্থ্য সেবা ও সুবিধা
- স্বাস্থ্য সাথী কার্ড: স্বাস্থ্য সাথী যোজনার আওতায় জেলার প্রতিটি পরিবার সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পায়। ব্লক দফতর বা ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রে কার্ড সংশোধন করানো যায়।
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র: জেলার ২২টি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে পরামর্শ, ওষুধ ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা পাওয়া যায়।
- টিকাকরণ: শিশুদের সম্পূর্ণ টিকাকরণ, টিটেনাস টিকা এবং ভিটামিন এ কর্মসূচি নিয়মিত চলে। বিশেষ টিকাকরণ দিবসে আঙনওয়াড়ি কেন্দ্রেও টিকা দেওয়া হয়।
- মাতৃ ও শিশু কল্যাণ: প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে উৎসাহ, প্রসবোত্তর যত্ন এবং কিশোরী স্বাস্থ্য কর্মসূচি ব্লক স্তরে পরিচালিত হয়।
- সুন্দরবন অঞ্চলের স্বাস্থ্য: প্রত্যন্ত দ্বীপগ্রামে নৌবাহিত স্বাস্থ্য শিবির ও মোবাইল মেডিকেল ইউনিট গুরুত্ব পায়; খারাপ আবহাওয়ায় আগাম পরিকল্পনা জরুরি।
- চিকিৎসা শিবির: সরকারি ও এনজিও পর্যায়ে চক্ষু, দন্ত ও সাধারণ চিকিৎসা শিবির নিয়মিত আয়োজিত হয়।
স্বাস্থ্যকর পরামর্শ
- ডেঙ্গি মৌসুমে জমা জল ধরে রাখবেন না এবং মশারি ব্যবহার করুন।
- নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- ৪০ বছর পার হলে বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করান।
- ধূমপান ও তামাক খাওয়া ছাড়ুন — এটি ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্টের প্রধান কারণ।
- জরুরি নম্বরগুলি পরিবারের সবাই জেনে রাখুক।