পশ্চিম বর্ধমান বাংলার শিল্প-হৃদয় — কয়লাখনি, ইস্পাত কারখানা ও খনি অঞ্চলের জন্য পরিচিত। আসানসোল ও দুর্গাপুর দুটি মহানগরে প্রায় ঊনত্রিশ লক্ষ মানুষের বাস, এবং এই শিল্প-প্রেক্ষাপট জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকেও আকৃতি দিয়েছে। জেলায় জেলা হাসপাতাল, ইএসআইসি হাসপাতাল, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল রয়েছে, আর গ্রামীণ ব্লকগুলিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জাল বিস্তৃত।
প্রধান হাসপাতাল ও চিকিৎসা কেন্দ্র
| হাসপাতাল | ধরন | অবস্থান | ফোন |
|---|---|---|---|
| আসানসোল জেলা হাসপাতাল | জেলা হাসপাতাল | আসানসোল | 0341-2302388 |
| ইএসআইসি হাসপাতাল | ইএসআইসি | আসানসোল | — |
| আইকিউ সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল | মেডিকেল কলেজ | দুর্গাপুর | — |
| শ্রী রামকৃষ্ণ ইনস্টিটিউট (সানাকা) হাসপাতাল | বিশেষায়িত | দুর্গাপুর | — |
আসানসোল জেলা হাসপাতাল জেলার প্রধান সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র — জরুরি বিভাগ, বিশেষজ্ঞ সেবা ও শল্যচিকিৎসার সুবিধা রয়েছে। খনি ও শিল্প অঞ্চলের স্বাস্থ্য-প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ইএসআইসি হাসপাতাল নিবন্ধিত শ্রমিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গাপুরের আইকিউ সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সানাকা হাসপাতাল উন্নত বিশেষায়িত চিকিৎসার সুবিধা দেয়।
জরুরি নম্বর
- পুলিশ: ১০০
- অ্যাম্বুলেন্স: ১০৮
- ফায়ার: ১০১
- কেওয়াইসি (নারী ও শিশু সহায়তা): ১০৭৮
রাজ্য সরকারের ১০৮ অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা জেলার শহর ও গ্রামে সক্রিয়। জামুরিয়া, পাণ্ডবেশ্বর বা আন্দালের মতো খনি-অঞ্চলের গ্রাম থেকে রোগী নিয়ে আসার সময় আগেই অ্যাম্বুলেন্স বুক করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
স্বাস্থ্য সেবা ও সুবিধা
- স্বাস্থ্য সাথী কার্ড: স্বাস্থ্য সাথী যোজনার আওতায় জেলার প্রতিটি পরিবার সরকারি ও তালিকাভুক্ত বেসরকারি হাসপাতালে প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পায়। ব্লক দফতর বা ডিজিটাল সেবা কেন্দ্রে কার্ড সংশোধন করানো যায়।
- প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র: জেলার ৮টি সমষ্টি উন্নয়ন ব্লকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও গ্রামীণ হাসপাতাল রয়েছে, যেখানে বিনামূল্যে পরামর্শ, ওষুধ ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা পাওয়া যায়।
- টিকাকরণ: শিশুদের সম্পূর্ণ টিকাকরণ, টিটেনাস টিকা এবং ভিটামিন এ কর্মসূচি নিয়মিত চলে। বিশেষ টিকাকরণ দিবসে আঙনওয়াড়ি কেন্দ্রেও টিকা দেওয়া হয়।
- মাতৃ ও শিশু কল্যাণ: প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবে উৎসাহ, প্রসবোত্তর যত্ন এবং কিশোরী স্বাস্থ্য কর্মসূচি ব্লক স্তরে পরিচালিত হয়।
- বায়ুদূষণ ও শ্বাসকষ্ট: কয়লা ও শিল্প অঞ্চলে শ্বাসকষ্ট ও অ্যালার্জি সচেতনতা কর্মসূচি গুরুত্ব পায় — কাশি বা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসকষ্ট হলে দেরি না করে পরীক্ষা করান।
- চিকিৎসা শিবির: সরকারি, ইএসআইসি ও এনজিও পর্যায়ে চক্ষু, দন্ত ও সাধারণ চিকিৎসা শিবির নিয়মিত আয়োজিত হয়।
স্বাস্থ্যকর পরামর্শ
- শিল্প-অঞ্চলে ধুলো বেশি হলে মুখে কাপড় বা মাস্ক ব্যবহার করুন।
- নিয়মিত হাঁটাহাঁটি ও শাকসবজি খাওয়ার অভ্যাস ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
- ৪০ বছর পার হলে বছরে অন্তত একবার সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করান।
- ধূমপান ও তামাক খাওয়া ছাড়ুন — এটি ক্যান্সার ও শ্বাসকষ্টের প্রধান কারণ।
- জরুরি নম্বরগুলি পরিবারের সবাই জেনে রাখুক।