মূল বিষয়বস্তুতে যান
বাংলাEN
🏛️পশ্চিমবঙ্গ সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

বাংলার যুবসাথী প্রকল্প ২০২৬ — মাসে ১,৫০০ টাকা বেকার ভাতা, যোগ্যতা ও আবেদন (যুবশ্রীর সঙ্গে পার্থক্য)

বাংলার যুবসাথী প্রকল্প ২০২৬ — বেকার যুবক-যুবতীদের মাসে ১,৫০০ টাকা ভাতা: যোগ্যতা (২১–৪০ বছর, মাধ্যমিক পাস), কাগজপত্র, আবেদন পদ্ধতি এবং পুরনো যুবশ্রী প্রকল্পের সঙ্গে আসল পার্থক্য।

আর্থিক অনুদান / সহায়তামাসে ১,৫০০ টাকা ভাতা
প্রশাসনিক দপ্তরশ্রম দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার / Employment Bank
আবেদনের মাধ্যমবিশেষ ক্যাম্পে ফর্ম + অনলাইন (Employment Bank / রাজ্য পোর্টাল)
অফিসিয়াল হেল্পলাইন1800 345 5384
অফিসিয়াল পোর্টালে যান ↗

আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস মিলিয়ে নিন

ক্যাম্পে বা অফিসে যাওয়ার আগে নিচের প্রতিটি নথিপত্র প্রস্তুত করে টিক মার্ক দিয়ে যাচাই করে নিন:

ভূমিকা

২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য ঘোষিত বাংলার যুবসাথী প্রকল্প — মাসে ১,৫০০ টাকা বেকার ভাতা। ঘোষণার পরই জেলায় জেলায় বিশেষ ক্যাম্পে ফর্ম বিলি শুরু হয়, আর দুই দিনেই ১৫ লক্ষের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল — এত চাপ দেখায় কত বড় অপেক্ষা ছিল।

যুবসাথী বনাম যুবশ্রী — বিভ্রান্তি পরিষ্কার

অনেকে ভাবেন যুবসাথী হল যুবশ্রীর নতুন নাম। আসলে দুটি আলাদা প্রকল্প:

বিষয় যুবশ্রী (পুরনো) যুবসাথী (২০২৬)
প্রকৃতি Employment Bank-ভিত্তিক বেকার ভাতা নতুন ঘোষিত বেকার ভাতা প্রকল্প
ভাতা মাসে ১,৫০০ টাকা মাসে ১,৫০০ টাকা
নিবন্ধন Employment Bank (employmentbankwb.gov.in) ক্যাম্প ফর্ম / রাজ্য পোর্টাল
বয়সসীমা প্রকল্প-নিয়ম অনুযায়ী ২১–৪০ বছর

দুটিতেই মূল চাবি একটাই — Employment Bank-এ নিবন্ধন ও আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। এখনও Employment Bank-এ নাম নেই হলে আগে সেখানে নিবন্ধন করে নিন: যুবশ্রী প্রকল্প গাইড।

যোগ্যতা ও কাগজপত্র

  • বয়স ২১–৪০ বছর
  • ন্যূনতম মাধ্যমিক (Class 10) পাস
  • বর্তমানে বেকার — সরকারি/বেসরকারি চাকরি বা নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা নেই
  • পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা

কাগজপত্র: আধার, মাধ্যমিক মার্কশিট, ঠিকানার প্রমাণ, ছবি, মোবাইল নম্বর ও আধার-লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। ভাতা সরাসরি DBT-তে আসে, তাই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি সক্রিয় ও সিডেড থাকা বাধ্যতামূলক।

আবেদন কীভাবে করবেন

১. পঞ্চায়েত / পুরসভা / ব্লক অফিসে দেওয়া বিশেষ ক্যাম্প থেকে ফর্ম নিন — দুয়ারে সরকারের ধাঁচে প্রতিটি জেলায় ক্যাম্প হয়। ২. অথবা সরকারি পোর্টাল থেকে অনলাইনে আবেদন করুন। ৩. ফর্ম জমার পর যাচাই হয়, যোগ্য তালিকা প্রকাশিত হয় এবং অনুমোদিতদের অ্যাকাউন্টে ভাতা আসতে শুরু করে।

ভুয়ো ‘কার্ড’ প্রতারণা থেকে সতর্কতা

সোশ্যাল মিডিয়ায় “যুবশক্তি ভরসা কার্ড”, “যুবসাথী কার্ড অ্যাপ্লিকেশন ফি” জাতীয় দাবি ও ভুয়ো সাইট ছড়িয়েছে। মনে রাখুন: সরকারি প্রকল্পে আবেদন ফি বলে কিছু নেই। শুধু employmentbankwb.gov.in, শ্রম দপ্তরের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি ও পঞ্চায়েত/ব্লক অফিসের ক্যাম্প-নোটিশকেই বিশ্বাস করুন।

সংযুক্ত পড়া

এই প্রকল্প নিয়ে প্রশ্নোত্তর

যুবসাথী কি যুবশ্রী প্রকল্পের নতুন নাম?

না — এগুলি দুটি আলাদা প্রকল্প। যুবশ্রী পুরনো প্রকল্প, যেখানে Employment Bank-এ নিবন্ধিত বেকার যুবক-যুবতীরা ভাতা পেতেন। যুবসাথী ২০২৬-এ ঘোষিত নতুন বেকার ভাতা প্রকল্প (মাসে ১,৫০০ টাকা, বয়স ২১–৪০, মাধ্যমিক পাস)। তবে Employment Bank-এর নিবন্ধন যুবসাথীর ক্ষেত্রেও কাজে লাগে।

যুবসাথী ভাতা কবে থেকে শুরু হয়েছে?

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণার পর প্রতিটি জেলায় ক্যাম্প করে ফর্ম বিলি শুরু হয় এবং ভাতা এপ্রিল ২০২৬ থেকে চালু হওয়ার কথা বলা হয়। সাম্প্রতিক অবস্থা ও তারিখ সংশ্লিষ্ট ব্লক অফিস বা শ্রম দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে যাচাই করুন।

যুবশ্রীর টাকা আসা বন্ধ হলে যুবসাথীতে আবার আবেদন করতে হবে?

যুবসাথী আলাদা প্রকল্প হওয়ায় সেটির জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে। তবে আপনার Employment Bank নিবন্ধন, আধার ও ব্যাঙ্ক তথ্য একই থাকলে প্রক্রিয়া সহজ হয়।

ইতিমধ্যে অন্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেলে (যেমন লক্ষ্মীর ভান্ডার) আবেদন করা যাবে?

সাধারণত একই ব্যক্তি একাধিক নগদ স্থানান্তর প্রকল্পের সুবিধা পান না — বিজ্ঞপ্তিতে বাদ-বিধি (Exclusion Criteria) দেখে নিন। পরিবারের অন্য সদস্যের প্রকল্প-সুবিধা সাধারণত বাধা নয়।

সরাসরি সহায়তা ও সরকারি হেল্পলাইন

কোনো সমস্যা বা তথ্যের অস্পষ্টতা থাকলে সরকারি সহায়তা কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।