🎓 আইনি সহায়তা
চেক বাউন্স মামলা ২০২৬ (ধারা ১৩৮): ৩০ দিনের নোটিস, শাস্তি ও জবাব দেওয়ার নিয়ম
চেক বাউন্স (Section 138 NI Act) হলে উভয় পক্ষের করণীয় — টাকা পাওনার ৩০ দিনের লিগ্যাল নোটিস, মামলা দায়েরের সময়সীমা, শাস্তির ধারা, 143A আন্তরিম ক্ষতিপূরণ এবং নোটিসের জবাব দেওয়ার পদ্ধতি।
ব্যবসায় বা ব্যক্তিগত লেনদেনে চেক বাউন্স হলে দুটো ভুলই মারাত্মক — টাকা পাওনাদার সময়সীমা মিস করা, আর অভিযুক্ত পক্ষ নোটিসকে অবজ্ঞা করা। ভারতের নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের ধারা ১৩৮ এতটাই নির্দিষ্ট সময়সীমায় বাঁধা যে ক্যালেন্ডার ধরে চলতে হয়। উভয় পক্ষের জন্যই পুরো প্রক্রিয়াটা এখানে।
টাইমলাইন: সময়সীমাগুলো এক নজরে
চেক বাউন্স (ব্যাংক মেমো)
│ ৩০ দিনের মধ্যে
▼
ডিমান্ড নোটিস (রেজিস্ট্রি ডাকে)
│ নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে টাকা দিলে ঝামেলা শেষ
▼ ১৫ দিন পেরোল
মামলা দায়ের (১ মাসের মধ্যে, ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে)
│
শুনানি → সাক্ষ্য → রায়
মনে রাখুন: চেক সাধারণত ৩ মাস বৈধ থাকে — প্রথমবার বাউন্স হলে ৩ মাসের মধ্যে আরেকবার জমা দেওয়া যায়; দ্বিতীয়বারও বাউন্স হলে তবেই ১৩৮ পথ খোলে।
যাঁর টাকা ফেরত চাহিদা (পাওনাদার) — করণীয়
- ব্যাংক মেমো রাখুন — বাউন্সের কারণ সহ (‘insufficient funds’ হলে সবচেয়ে পরিষ্কার)
- ৩০ দিনের মধ্যে ডিমান্ড নোটিস — আইনজীবী বানিয়ে দেন: চেকের বিবরণ, দেনার প্রকৃতি, সঠিক অঙ্ক, ১৫ দিনের পেমেন্ট সময়
- রেজিস্ট্রি ডাক/স্পিড পোস্টে পাঠান — রসিদ ও ট্র্যাকিং সেভ করুন
- ১৫ দিনে টাকা না আসলে ১ মাসের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ — দেনার প্রমাণ (বিল, চুক্তি, লেনদেনের রেকর্ড) সাজান
- মামলা চলাকালীন ১৪৩A ধারায় আদালত আন্তরিম ক্ষতিপূরণ চাইতে পারেন — চেকের ২০% পর্যন্ত
যিনি নোটিস পেয়েছেন (চেক দাতা) — করণীয়
- নিচে পড়বেন না — নোটিস পাওয়ার তারিখ নোট করুন, ১৫ দিনের ঘড়ি শুরু
- টাকা দিতে পারলে দিন — মূল অঙ্ক + বাউন্স চার্জ; রসিদ নিন, মামলা হবেই না
- দিতে না পারলে লিখিত জবাব দিন — অস্বীকার, ভুল অঙ্ক, বা কিস্তির প্রস্তাব; রেজিস্ট্রি ডাকে
- যুক্তি সংগ্রহ করুন — চেকটা কেন দিয়েছিলেন, কী হলো (সিকিউরিটি চেক? এমি প্যাড়া? চুক্তি শেষ?)
- মামলা হলে আইনজীবীর সঙ্গে জবাব তৈরি করুন — কেস স্ট্যাটাস e-Courts সাইটেও দেখা যায়
শাস্তি কত?
- ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অথবা
- চেকের অঙ্কের দ্বিগুণ পর্যন্ত জরিমানা, বা দুটোই
- মামলা চলাকালীন আন্তরিম ক্ষতিপূরণ (১৪৩A) — চেকের ২০% পর্যন্ত
- ব্যবহারিক বাস্তবতা: বেশিরভাগ মামলা শুনানির মাঝেই সমঝোতায় মেটে — আদালতও সেটাই উৎসাহ দেয়
সাধারণ ভুল যেগুলো মামলা ভেঙে দেয়
- ৩০ দিন পেরিয়ে নোটিস — মামলার আগেই মৃত্যু
- নোটিসে অঙ্ক ভুল বা দেনার উৎস অস্পষ্ট
- সাধারণ ডাকে নোটিস — প্রাপ্তির প্রমাণ নেই
- দেনার প্রমাণ না রাখা — চেক একাই যথেষ্ট নয় সব সময়
- অভিযুক্ত পক্ষের নীরবতা — জবাব না দিলে নোটিসের দাবি অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়
সঙ্গে দেখুন
- কনজিউমার কমিশনে অভিযোগ (E-Daakhil)
- বিমা ক্লেইম রিজেক্ট হলে আপিল
- ব্যবসায়িক প্রয়োজনে: GST রেজিস্ট্রেশন গাইড
🪜 ধাপে ধাপে নির্দেশিকা
- বাউন্স হওয়ার ৩০ দিনে নোটিস
টাকা পাওনাদার: ব্যাংক মেমো পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ডিমান্ড নোটিস পাঠান — অঙ্ক, চেক বিবরণ, ১৫ দিনের সময়।
- ১৫ দিনের পেমেন্ট সময়
নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে টাকা দিলে মামলা থেকে যায় — এটাই আইনের প্রস্তাব।
- মেয়াদ শেষে ১ মাসে মামলা
টাকা না এলে টাকা পাওনাদার নিজ এলাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন।
- শুনানি ও প্রমাণ
চেক, মেমো, নোটিস, দেনার প্রমাণ আদালতে — অভিযুক্ত পক্ষ জবাব দেন, মামলা সাক্ষ্য-পর্বে যায়।
- রায় ও শাস্তি
দোষী সাব্যস্ত হলে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা চেকের অঙ্কের ২ গুণ পর্যন্ত জরিমানা, বা দুটোই।
❓ সাধারণ প্রশ্ন
নোটিস পেয়েছি কিন্তু টাকা দেওয়ার সামর্থ্য এখনই নেই — কী করব?
১৫ দিনের মধ্যে অন্তত লিখিত জবাব দিন (নিজে বা আইনজীবীর মাধ্যমে) — অস্বীকার বা কিস্তির প্রস্তাব সহ। কিস্তিতে সমঝোতা হলে মামলা এড়ানো যায়। পুরোপুরি নীরব থাকলে আদালতে আপনার অবস্থান দুর্বল হয় এবং মামলা নিশ্চিতভাবেই দায়ের হবে।
চেক বাউন্সের শাস্তি কী কী?
ধারা ১৩৮ অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হলে ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, বা চেকের অঙ্কের দ্বিগুণ পর্যন্ত জরিমানা, বা দুটোই। এছাড়া ১৪৩A ধারায় আদালত মামলা চলাকালীন আন্তরিম ক্ষতিপূরণ (interim compensation) দিতেও নির্দেশ করতে পারে — সাধারণত চেকের অঙ্কের ২০% পর্যন্ত।
সিকিউরিটি চেক বা ঋণের এমি প্যাড়া চেক বাউন্স হলেও ১৩৮ মামলা হয়?
আইনের অক্ষরে ১৩৮ ধারা 'debt or other liability' — যেকোনো বৈধ দেনার চেকে প্রযোজ্য। তবে আদালতে দেনার প্রকৃতি ও চেক দেওয়ার প্রেক্ষাপট প্রমাণ করতে হয়। অর্থাৎ হয়, কিন্তু প্রমাণের পাহাড় আলাদা — এই বিষয়ে আইনজীবীর পরামর্শ অপরিহার্য।