মূল বিষয়বস্তুতে যান
বাংলাEN

🌱 বায়োমাস শিল্প ডেস্ক

MNRE বায়োমাস পেলেট ভর্তুকি ২০২৬ — প্রতি TPH ₹২১ লক্ষ CFA-র সম্পূর্ণ নিয়ম ও আবেদন পদ্ধতি

MNRE-র জাতীয় বায়োএনার্জি প্রোগ্রামে বায়োমাস পেলেট প্ল্যান্টের জন্য প্রতি TPH ₹২১ লক্ষ (টরেফায়েডে ₹৪২ লক্ষ) ভর্তুকির নিয়ম, BioURJA পোর্টালে আবেদন, DPR ও In-Principle অনুমোদন, শর্ত এবং সতর্কতা — সম্পূর্ণ বাংলায়।

🗓️ প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬✏️ আপডেট: ১ অক্টোবর, ২০২৬🛡️ যাচাইকৃত: ১ অক্টোবর, ২০২৬📖 ৪ মিনিট পড়া

কয়লা-চালিত থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টে বাধ্যতামূলক ৫–১০% বায়োমাস কো-ফায়ারিং নিয়ম চালু হওয়ার পর থেকে বায়োমাস পেলেট এখন ভারতের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শিল্পখাতগুলির একটি। সরবরাহ ধরে রাখতে নব ও নব্য নবীকরণযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রক (MNRE) তাঁর জাতীয় বায়োএনার্জি প্রোগ্রামের বায়োমাস কম্পোনেন্টে পেলেট প্ল্যান্ট স্থাপনে যে মূলধনী ভর্তুকি (CFA) দিচ্ছে, তা এই খাতে ঢোকার সবচেয়ে বড় আর্থিক প্রণোদনা। এই নির্দেশিকায় ভর্তুকির সঠিক হিসেব, যোগ্যতা, BioURJA পোর্টালে আবেদনের ধাপ এবং যে ভুলগুলি আবেদন বাতিল করিয়ে দেয় — সব একসঙ্গে।


১. ভর্তুকির হিসেব: কত টাকা কীভাবে মেলে

২০২৪-এর সংশোধনী অনুযায়ী হার:

প্ল্যান্টের ধরন CFA হার সর্বোচ্চ সীমা
নন-টরেফায়েড পেলেট প্রতি TPH ₹২১ লক্ষ পর্যন্ত ৫ TPH — সর্বোচ্চ প্রায় ₹১.০৫ কোটি, বা মেশিনারি খরচের ৩০%, যেটি কম
টরেফায়েড পেলেট প্রতি TPH ₹৪২ লক্ষ সর্বোচ্চ প্রায় ₹২.১ কোটি প্রতি প্ল্যান্টে

তিনটি জিনিস মনে রাখতে হবে:

  • ৩০% ক্যাপ: মেশিনারির খরচ যদি ₹৩ কোটি হয়, ৩০% মানেই ₹৯০ লক্ষ — ১ TPH প্ল্যান্টে হিসেবটা ২১ লক্ষের নিচেই দাঁড়ায়। একটু বড় প্ল্যান্টে (৩–৫ TPH) তবেই ₹২১ লক্ষ × TPH-র পূর্ণ সুবিধা কাছাকাছি আসে।
  • ব্যাক-এন্ডেড পেমেন্ট: টাকা আগে পাবেন না। ব্যাংক ঋণে প্রজেক্ট বানিয়ে চালু করার পরে নির্ধারিত মানদণ্ডে পারফরম্যান্স টেস্ট পাস করলে তবেই CFA ছাড় হয় — সাধারণত ব্যাংক ঋণের অ্যাকাউন্টে বা ঋণ সমন্বয় হিসেবে।
  • পারফরম্যান্স-লিংকড: ২০২৫-এর সংশোধিত নিয়মে পূর্ণ CFA-র শর্ত — প্ল্যান্ট রেটেড ক্ষমতার প্রায় ৮০% উৎপাদনে অবিচ্ছিন্ন ১০ ঘণ্টা চলতে পারে তা পরীক্ষা করা হয়। সাথে SCADA/দূরবর্তী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক।

সহজ ভাষায়: ভর্তুকি “হাতে-নগদ” প্রণোদনা নয়, এটি প্রজেক্টের ঋণ-ভার কমানোর হাতিয়ার। পরিকল্পনার সময় পুরো ROI ভর্তুকি বাদ দিয়েও লাভজনক কি না হিসেব করুন — ভর্তুকি পেলে সেটা বোনাস।

২. যোগ্যতা ও প্রধান শর্ত

  • নতুন মেশিনারি: পুরনো/দ্বিতীয় হাতের যন্ত্রপাতির প্ল্যান্টে CFA মেলে না — সব যন্ত্রপাতি নতুন হতে হবে।
  • ব্যক্তিগত, পার্টনারশিপ, LLP, Pvt Ltd — সব ধরনের উদ্যোক্তা আবেদন করতে পারেন; নিজের টাকায় (self-funded) প্রজেক্টও যোগ্য, তবে তখন মূল্যায়ন হয় প্রজেক্ট অ্যাপ্রাইজাল কমিটির মাধ্যমে।
  • DPR (Detailed Project Report): স্থান, কাঁচামালের সরবরাহ-চেইন, মেশিনারি তালিকা, বিদ্যুৎ লোড, প্রজেক্ট খরচ ও আর্থিক হিসেব-সহ বিস্তারিত প্রজেক্ট রিপোর্ট লাগবেই।
  • In-Principle (IP) অনুমোদন আগে, কেনাকাটা পরে: মেশিনারি অর্ডার দেওয়ার আগেই BioURJA পোর্টালে আবেদন করে In-Principle অনুমোদন নিতে হয়। IP অনুমোদনের পরে সাধারণত ১২ মাসের মধ্যে প্ল্যান্ট চালু করতে হয় — না হলে অনুমোদন বাতিল হতে পারে।

সাবধান: IP অনুমোদনের আগে মেশিনারির অগ্রিম টাকা দিলে ভর্তুকি ছাড়তে গিয়ে জটিলতায় পড়বেন। আবেদনের সঠিক ক্রম — জায়গা ও কাঁচামাল নিশ্চিত → DPR → IP অনুমোদন → মেশিনারি কেনা → স্থাপন → পারফরম্যান্স টেস্ট → CFA ছাড়।

৩. BioURJA পোর্টালে আবেদনের ধাপ

১. নিবন্ধন: biourja.mnre.gov.in-এ উদ্যোক্তা হিসেবে নিবন্ধন করুন — সংস্থার PAN, GST, ব্যাংক বিবরণ লাগবে। ২. আবেদন ফর্ম: প্ল্যান্টের ধরন (পেলেট/ব্রিকেট/কোজেনারেশন), ক্ষমতা (TPH), স্থান, কাঁচামালের উৎস পূরণ করুন। ৩. DPR আপলোড: CA/প্রকৌশলী-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে DPR বানিয়ে আপলোড করুন — এখানেই বেশিরভাগ আবেদন দুর্বল হয়। ৪. In-Principle অনুমোদন: ব্যাংক ঋণের প্রজেক্টে MNRE IFD অনুমোদন ও সচিবের ছাড়পত্রে IP দেয়; self-funded হলে অ্যাপ্রাইজাল কমিটি পথে যায়। ৫. স্থাপন ও চালু: ১২ মাসের মধ্যে প্ল্যান্ট চালু করে SCADA-সহ পারফরম্যান্স ডেটা জমা দিন। ৬. পরীক্ষা ও CFA ছাড়: নির্দিষ্টকৃত সংস্থার পরিদর্শন ও ৮০% ক্ষমতার টেস্টের পরে CFA ছাড় হয়।

৪. প্রোগ্রামের বর্তমান অবস্থা — স্পষ্ট কথা

প্রোগ্রামটি অবহিত FY ২০২১-২২ থেকে FY ২০২৫-২৬ পর্যন্ত; নভেম্বর ২০২৫-এ পর্যায়-১-এর জন্য অতিরিক্ত ₹১৪০ কোটির বরাদ্দও অনুমোদিত হয়েছিল। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য পৃথক সম্প্রসারণ বিজ্ঞপ্তি এই নির্দেশিকা লেখার সময় (অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশ্যে যাচাই করা যায়নি। কারণ এই প্রোগ্রাম আগেও ধাপে ধাপে বর্ধিত হয়েছে, তবে অনুমানে আবেদন না করে MNRE-র বিজ্ঞপ্তি অংশ ও BioURJA পোর্টালে বর্তমান গাইডলাইন PDF দেখে সিদ্ধান্ত নিন।

৫. ভর্তুকির সঙ্গে মিলবে যা যা

  • পাঞ্জাব, হরিয়ানার মতো রাজ্যগুলি নিজস্ব রাজ্য-স্তরের ভর্তুকিতে ৩০–৪০% অতিরিক্ত দেয় — পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য-স্তরের সমতুল্য প্রণোদনা পশ্চিমবঙ্গ নব্য নবীকরণযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন সংস্থা (WBREDA) ও পাওয়ার বিভাগের বর্তমান নীতিতে যাচাই করুন।
  • ব্যাংক ঋণ: CFA ব্যাক-এন্ডেড বলে প্রকল্পের ৭০–৮০% ব্যাংক ঋণে বানানোই স্বাভাবিক মডেল — MSME টার্ম লোন, CGTMSE-সুরক্ষিত ঋণের সংযোগ আমাদের উদ্যম বিভাগে আছে।
  • কেনাকাটার নিশ্চয়তা: SAMARTH মিশনের ৫% কো-ফায়ারিং বাধ্যতামূলক হওয়ায় NTPC, DVC, WBPDCL নিয়মিত পেলেটের টেন্ডার দেয় — বিক্রির পথ টেন্ডার নির্দেশিকায় বিস্তারিত।

৬. সাধারণ ভুল যা আবেদন বারোটা লাগায়

  1. কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করার আগেই প্ল্যান্ট ক্ষমতা ঠিক করা — ৫০ কিমি ব্যাসার্ধে বছরে কত খড়/অবশিষ্ট সত্যিই সংগ্রহযোগ্য, তা প্রমাণ করতে না পারলে DPR টলে।
  2. দ্বিতীয় হাতের মেশিনারি বা ধাপে ধাপে ব্যয় কমাতে গিয়ে SCADA বাদ দেওয়া।
  3. মেশিনারি কেনার পরে আবেদন — IP অনুমোদনের নিয়ম ভেঙে গেলে CFA প্রায় নিশ্চিত বঞ্চিত।
  4. “এজেন্টের হাতে” DPR ও আবেদন ছেড়ে দেওয়া — আবেদনকারী সংস্থাই সব দায় নেয়।

❓ সাধারণ প্রশ্ন

ভর্তুকি কি প্ল্যান্ট চালু হওয়ার আগেই পাওয়া যায়?

না — CFA ব্যাক-এন্ডেড, অর্থাৎ নিজস্ব অংশ ও ব্যাংক ঋণে প্ল্যান্ট স্থাপন-চালু করার পরে, নির্ধারিত পারফরম্যান্স পরীক্ষা পাস করলে তবেই MNRE টাকা ছাড় করে। তাই পুরো প্রজেক্টের আর্থিক হিসেব ভর্তুকি ছাড়াই টেনে নেওয়াই নিরাপদ।

টরেফায়েড পেলেটে ভর্তুকি কেন দ্বিগুণ?

টরেফায়েড পেলেট তৈরিতে অতিরিক্ত টরেফ্যাকশন ইউনিট (উচ্চ তাপমাত্রায় রোস্টিং) লাগে, ক্যাপিটাল খরচ ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি দুই-ই বেশি। ফলে তার ভর্তুকি প্রতি TPH ₹৪২ লক্ষ (সর্বোচ্চ প্রায় ₹২.১ কোটি) — কিন্তু মেশিনারির খরচও অনুপাতে বেশি।

ব্রিকেট প্ল্যান্টে কি একই ভর্তুকি মেলে?

ব্রিকেটিং/পেলেটাইজিং প্ল্যান্ট একই প্রোগ্রামের আওতাভুক্ত, তবে হার বিজ্ঞপ্তিভেদে আলাদা — পুরনো হার ছিল ₹৯ লক্ষ/MTPH, জুলাই ২০২৪-র সংশোধনে পেলেটের হার বেড়ে ₹২১ লক্ষ/MTPH হয়েছে। আবেদনের আগে BioURJA পোর্টালের বর্তমান গাইডলাইন PDF পড়ে নিন।

← সব বায়োমাস গাইড