পশ্চিমবঙ্গ বিধবা ভাতার যোগ্যতা, আবেদনের নিয়ম, WB Samarth পোর্টালে স্ট্যাটাস চেক করার ধাপ, মাসিক ভাতার পরিমাণ এবং ভাতা বন্ধ হয়ে গেলে পুনরায় চালু করার সম্পূর্ণ গাইড।
ক্যাম্পে বা অফিসে যাওয়ার আগে নিচের প্রতিটি নথিপত্র প্রস্তুত করে টিক মার্ক দিয়ে যাচাই করে নিন:
স্বামীকে হারানো দরিদ্র মহিলাদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পগুলির একটি হল বিধবা ভাতা (West Bengal Widow Pension) — মাস শেষে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (DBT) মাসিক পেনশন। কিন্তু আবেদন জমা দেওয়ার পর অনেকেই আটকে যান একই জায়গায়: আবেদন কোথায় আছে? অনুমোদিত হয়েছে কি না? আর পুরনো উপভোক্তাদের মাঝে মাঝে ভাতা হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়।
এই গাইডে একসঙ্গে পাবেন — যোগ্যতা, আবেদনের সঠিক পথ, WB Samarth পোর্টালে স্ট্যাটাস চেক করার ধাপ, এবং ভাতা বন্ধ হলে তা আবার চালু করার উপায়।
⚠️ একটি প্রকল্পেই সীমাবদ্ধ: বিধবা ভাতা ও লক্ষ্মীর ভান্ডার একসঙ্গে পাওয়া যায় না। কোনটি আপনার জন্য সঠিক, তা ব্লক অফিসের সমাজকল্যাণ শাখায় যাচাই করে নিন।
বিধবা ভাতার আবেদন মূলত অফলাইন ক্যাম্প-ভিত্তিক, তবে স্ট্যাটাস অনলাইনেই দেখা যায়।
স্ট্যাটাস মিলল না? আবেদনটি যদি অনেক আগে (বিশেষত NSAP-যুক্ত পুরনো পেনশন হিসেবে) জমা হয়ে থাকে, তবে কেন্দ্রীয় NSAP ট্র্যাকারে আবেদন নম্বর ও ক্যাপচা দিয়েও দেখতে পারেন। মোবাইলে দেখতে চাইলে UMANG অ্যাপেও কেন্দ্রীয় পেনশনের স্ট্যাটাস পাওয়া যায়।
বিধবা ভাতা হঠাৎ বন্ধ হওয়ার পেছনে সাধারণত এই কারণগুলি থাকে:
| কারণ | লক্ষণ | সমাধান |
|---|---|---|
| জীবিতপত্র / বার্ষিক যাচাই বাকি | একটি নির্দিষ্ট মাস থেকে টাকা বন্ধ | পঞ্চায়েত/ব্লক অফিসে জীবিতপত্র জমা দিয়ে পুনঃযাচাই |
| NPCI-DBT লিঙ্ক নিষ্ক্রিয় | পোর্টালে পেমেন্ট Failed/Returned | ব্যাংকে গিয়ে আধার-DBT (NPCI) ম্যান্ডেট ফর্ম জমা দিন |
| অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় (Dormant) | অনেকদিন লেনদেন নেই | ব্যাংকে গিয়ে অ্যাকাউন্ট সচল ও Full KYC করান |
| নাম/তথ্যে অমিল | আধার ও ব্যাংকে বানান ভিন্ন | ব্লক অফিসে সংশোধনী ফর্ম জমা দিন |
| অন্য প্রকল্পের ভাতা ধরা পড়া | লক্ষ্মীর ভান্ডার/অন্নপূর্ণার সঙ্গে ডুপ্লিকেট | ব্লক অফিসে ব্যাখ্যা দিয়ে একটি প্রকল্প বেছে নিন |
যে কারণেই বন্ধ হোক — লিখিত দরখাস্ত + রসিড জমা দিলে কাজ দ্রুত হয়। সংশোধনের পর আটকে থাকা বকেয়া কিস্তি পরবর্তী কিস্তির সঙ্গে ফিরে পাওয়া যায়।
২০২৬-এ মাসিক ভাতা ₹১,০০০ থেকে বাড়িয়ে ₹১,৫০০ করার ঘোষণা হয়েছে; টাকা DBT-তে ব্যাংকে আসে। সর্বশেষ পরিমাণ স্থানীয় অফিসে নিশ্চিত করুন।
WB Samarth পোর্টালের ‘Track Applicant Status’-এ Application ID, আধার নম্বর বা নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর — যেকোনো একটি।
স্থায়ী সময়সীমা নেই — ক্যাম্প ও ব্লকভেদে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস লাগতে পারে। রসিড নম্বর রেখে নিয়মিত স্ট্যাটাস দেখুন; অনেকদিন নড়ছে না হলে ব্লক অফিসে যোগাযোগ করুন।
না — একজন ব্যক্তি একসঙ্গে একটি মাসিক পেনশন প্রকল্পেরই উপভোক্তা হন।
হ্যাঁ। বাতিলের কারণ (ডকুমেন্টের ঘাটতি, তথ্যের অমিল) ঠিক করে পরের ক্যাম্পে বা ব্লক অফিসে নতুন আবেদন করা যায়।
🛡️ ভাতা পাওয়ার নামে এজেন্টকে টাকা দেবেন না — আবেদন বিনামূল্যে। ফোনে OTP, আধার নম্বর বা ব্যাংক পিন কাউকে দেবেন না। শুধুমাত্র
.gov.inপোর্টাল ও ব্লক/পৌরসভা অফিসেই যোগাযোগ করুন।
সম্পর্কিত নিবন্ধ: ৬০ বছরের বেশি বয়সের পেনশন জানতে পড়ুন বার্ধক্য ভাতা: সেবাসেতু ক্যাম্পে আবেদন ও স্ট্যাটাস চেকের গাইড। ভাতার টাকা ব্যাংকে না ঢুকলে পেমেন্ট সমস্যা সমাধানের গাইড দেখুন — NPCI/DBT নিয়মটি বিধবা ভাতাতেও এক।
পুরনো socialsecurity.wb.gov.in (WB Samarth) পোর্টালটি এখন socialregistry.wb.gov.in-এ চলে এসেছে — ওখানেই Citizen Login-এ আবেদনের মোবাইল নম্বর + OTP দিয়ে লগইন করে স্ট্যাটাস ও আবেদনের অবস্থা দেখা যায়। পুরনো NSAP-যুক্ত পেনশনের ক্ষেত্রে nsap.dord.gov.in-এর অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাকারে আবেদন নম্বর দিয়েও দেখা যায়।
মূল পথ হল দুয়ারে সরকার / সেবাসেতু ক্যাম্প বা BDO, SDO, DSWO, পৌরসভা অফিস থেকে Form-P সংগ্রহ করে জমা দেওয়া। অনলাইনে স্ট্যাটাস ট্র্যাক করা যায়; কিছু ক্ষেত্রে e-District পোর্টাল দিয়েও আবেদন করা যায়। এলাকাভেদে নিয়ম ভিন্ন হতে পারে — ব্লক অফিসে জিজ্ঞাসা করে নিন।
২০২৬-এ সরকার মাসিক ভাতা ₹১,০০০ থেকে বাড়িয়ে ₹১,৫০০ করার ঘোষণা করেছে (বার্ধক্য ও প্রতিবন্ধী ভাতাতেও একই বৃদ্ধি)। টাকা DBT-র মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসে। সর্বশেষ পরিমাণ স্থানীয় সমাজকল্যাণ অফিসে নিশ্চিত করে নিন।
না। রাজ্য সরকারের নিয়মে একজন উপভোক্তা একই সময়ে একটি প্রকল্পেরই মাসিক ভাতা পান। বিধবা ভাতা পেতে গেলে লক্ষ্মীর ভান্ডার/অন্নপূর্ণার ভাতা না পাওয়ার শর্ত থাকে।
সাধারণত জীবিতপত্র/যাচাই বাকি থাকা, ব্যাংকের NPCI-DBT সমস্যা বা তথ্যে অমিলের কারণে ভাতা আটকায়। Samarth পোর্টালে স্ট্যাটাস দেখুন, ব্যাংকে DBT লিঙ্কিং যাচাই করুন, এবং ডকুমেন্টসহ ব্লক/পৌরসভা অফিসে যোগাযোগ করে পুনঃযাচাই করিয়ে নিন। বকেয়া কিস্তি সংশোধনের পর ফিরে পাওয়া যায়।
কোনো সমস্যা বা তথ্যের অস্পষ্টতা থাকলে সরকারি সহায়তা কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।