মূল বিষয়বস্তুতে যান
বাংলাEN
🏛️পশ্চিমবঙ্গ সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প ২০২৬: আবেদন পদ্ধতি, মাসিক ভাতা ও স্ট্যাটাস চেক

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে প্রতি মাসে সাধারণ মহিলাদের ₹১,০০০ ও তপশিলি জাতি/উপজাতির মহিলাদের ₹১,২০০ ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা, নতুন ফর্ম ও অনলাইন স্ট্যাটাস।

আর্থিক অনুদান / সহায়তা₹১,০০০ (General/OBC) ও ₹১,২০০ (SC/ST) প্রতি মাসে
প্রশাসনিক দপ্তরমহিলা ও শিশু বিকাশ এবং সমাজকল্যাণ দপ্তর
আবেদনের মাধ্যমদুয়ারে সরকার ক্যাম্প (বিনামূল্যে ফর্ম)
অফিসিয়াল হেল্পলাইন033 2337 3846
অফিসিয়াল পোর্টালে যান ↗

আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস মিলিয়ে নিন

ক্যাম্পে বা অফিসে যাওয়ার আগে নিচের প্রতিটি নথিপত্র প্রস্তুত করে টিক মার্ক দিয়ে যাচাই করে নিন:

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় ও ফ্ল্যাগশিপ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প হলো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar)। পরিবারের মূল চালিকাশক্তি মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে এবং আর্থিক সুরক্ষা দিতে ২০২১ সালে এই প্রকল্প চালু হয়।

২০২৬ সালের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য সাধারণ ও ওবিসি শ্রেণির মহিলারা প্রতি মাসে ₹১,০০০ এবং তপশিলি জাতি (SC) ও তপশিলি উপজাতি (ST) শ্রেণির মহিলারা প্রতি মাসে ₹১,২০০ সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (DBT) পেয়ে থাকেন।


🔄 গুরুত্বপূর্ণ আপডেট: লক্ষ্মীর ভান্ডারের যাচাই ও বাস্তবায়ন এখন রাজ্য সরকারের নতুন অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) কাঠামোয় এবং নতুন পোর্টাল socialregistry.wb.gov.in-এর মাধ্যমে চলছে (আগের socialsecurity.wb.gov.in পোর্টাল এখন এই ঠিকানাতেই চলে আসে)। নতুন পোর্টালে স্ট্যাটাস ‘Under Enquiry’ বা ‘Rejected’ দেখালে কী করবেন জানতে পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনায় Claim ও Objection করার সম্পূর্ণ নিয়ম।

সংক্ষেপে উত্তর: লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে যোগ্য সাধারণ/ওবিসি মহিলারা প্রতি মাসে ₹১,০০০ ও তপশিলি জাতি/উপজাতির মহিলারা ₹১,২০০ পান। আবেদন করতে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে স্বাস্থ্য সাথী কার্ড, আধার কার্ড ও আধার-সংযুক্ত একক ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাসবই নিয়ে যান — সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। স্ট্যাটাস/পেমেন্ট চেক করুন socialregistry.wb.gov.in-এ ‘Track Applicant Status’-এ।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মূল সুবিধাসমূহ

  • মাসিক আর্থিক অনুদান: প্রতি মাসে সরাসরি উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভাতা পাঠানো হয়।
  • আর্থিক ক্ষমতায়ন: পরিবারের জরুরি খরচ ও মহিলাদের নিজস্ব সঞ্চয়ে অত্যন্ত কার্যকর।
  • স্বচ্ছ বিতরণ ব্যবস্থা: কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই Direct Benefit Transfer (DBT)-এর মাধ্যমে প্রতি মাসের শুরুতে টাকা জমা হয়।
  • ৬০ বছর পূর্ণ হলে বার্ধক্য ভাতা: ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে এই উপভোক্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজ্য সরকারের ‘বার্ধক্য ভাতা’ (Old Age Pension) প্রকল্পের আওতায় অন্তর্ভুক্ত হন।

কারা আবেদন করতে পারবেন (যোগ্যতার মাপকাঠি)

১. আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
২. আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
৩. শুধুমাত্র পরিবারের মহিলা সদস্যরাই এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য।
৪. আবেদনকারীর নিজস্ব নামে একটি সক্রিয় Aadhaar-সংযুক্ত সিঙ্গেল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

কারা পাবেন না: যে সকল মহিলা সরকারি চাকরি (কেন্দ্র বা রাজ্য) করেন, সরকারি পেনশন পান অথবা আয়কর প্রদান করেন, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন।


প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Documents Required)

আবেদনের সময় নিম্নলিখিত কাগজপত্রের জেরক্স কপি জমা দিতে হবে:

  1. স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের জেরক্স (বাধ্যতামূলক)।
  2. আধার কার্ডের জেরক্স (Aadhaar Card)।
  3. তপশিলি জাতি/উপজাতি সার্টিফিকেট (SC/ST উপভোক্তাদের জন্য প্রযোজ্য)।
  4. ব্যাংক পাসবুকের প্রথম পাতার জেরক্স (যেখানে নাম, অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড পরিষ্কার দেখা যায়)।
  5. পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি (২ কপি)।
  6. সচল মোবাইল নম্বর (SMS অ্যালার্ট ও ভেরিফিকেশনের জন্য)।

কীভাবে আবেদন করবেন (Step-by-Step)

দুয়ারে সরকার ক্যাম্পের মাধ্যমে

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদনের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো রাজ্যের ‘দুয়ারে সরকার’ (Duare Sarkar) ক্যাম্প।

  1. নিকটবর্তী দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে গিয়ে নির্ধারিত কাউন্টার থেকে বিনামূল্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আবেদন পত্র (Form) সংগ্রহ করুন।
  2. ফর্মে আপনার নাম, স্বাস্থ্য সাথী নম্বর, আধার নম্বর, জন্মতারিখ, পিতা/স্বামীর নাম এবং ব্যাংকের যাবতীয় তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণ করুন।
  3. ফর্মের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমস্ত নথিপত্রের স্ব-প্রত্যয়িত (Self-attested) জেরক্স কপি সংযুক্ত করুন।
  4. ক্যাম্পে নির্ধারিত আধিকারিকের কাছে জমা দিয়ে Acknowledgement Slip (রসিদ) সংগ্রহ করুন। রসিদে থাকা অ্যাপ্লিকেশন আইডি সযত্নে রাখুন।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার স্ট্যাটাস চেক করবেন কীভাবে?

অনলাইনে আপনার আবেদনের বর্তমান স্থিতি বা পেমেন্ট স্ট্যাটাস জানতে:

  1. রাজ্য সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল socialregistry.wb.gov.in-এ যান।
  2. ‘Track Applicant Status’ অপশনে ক্লিক করুন।
  3. আপনার অ্যাপ্লিকেশন আইডি, মোবাইল নম্বর, স্বাস্থ্য সাথী নম্বর বা আধার নম্বরের মধ্যে যেকোনো একটি প্রদান করুন।
  4. ক্যাপচা কোড পূরণ করে ‘Search’ বোতামে ক্লিক করলেই আপনার আবেদনটি অনুমোদিত হয়েছে কি না এবং পেমেন্টের বিবরণ স্ক্রিনে দেখতে পাবেন।

স্ট্যাটাস ‘Under Enquiry’ বা ‘Rejected’ দেখালে প্যানিকের কিছু নেই — সঠিক কারণ বেছে অনলাইনে Claim/Objection জমা দেওয়ার সম্পূর্ণ নিয়ম জানতে পড়ুন: অন্নপূর্ণা যোজনায় Claim ও Objection করার সম্পূর্ণ নিয়ম। আর ৬০ বছর পার হওয়া উপভোক্তাদের জন্য দেখুন বার্ধক্য ভাতা অনলাইন আবেদন গাইড।

এই প্রকল্প নিয়ে প্রশ্নোত্তর

জয়েন্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আসবে?

না, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী শুধুমাত্র আবেদনকারী মহিলার একক (Single) ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়। জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট দেওয়া থাকলে পেমেন্ট বাতিল বা আটকে যেতে পারে — ব্যাংকে গিয়ে আলাদা সিঙ্গেল অ্যাকাউন্ট খুলে সেটিই জমা দিন।

ব্যাংকে টাকা না এলে কী করণীয়?

প্রথমে socialregistry.wb.gov.in-এ স্ট্যাটাস চেক করুন। ব্যাংক ভ্যালিডেশন ফেইল্ড বা আধার লিঙ্ক সমস্যা দেখালে ব্যাংকে গিয়ে NPCI Mapping ও DBT সক্রিয় করান। তারপরও সমাধান না হলে স্থানীয় BDO (গ্রামে) বা SDO/পৌরসভা অফিসে (শহরে) যোগাযোগ করুন।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা কোন তারিখে আসে?

ভাতা Direct Benefit Transfer (DBT)-এর মাধ্যমে প্রতি মাসের শুরুতে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। কোনো মাসে দেরি হলে পোর্টালে স্ট্যাটাস চেক করুন — সেখানেই পেমেন্টের সঠিক তারিখ দেখা যায়।

স্বামীর বা পরিবারের অন্য কারও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কি ভাতা যোগ করা যায়?

না। ভাতা শুধুমাত্র আবেদনকারী মহিলার নিজের নামে খোলা আধার-সংযুক্ত একক অ্যাকাউন্টেই আসে। স্বামী বা অন্য কারও অ্যাকাউন্টে ভাতা পাঠানোর নিয়ম নেই।

আমার মোবাইল নম্বর বদলে গেছে, স্ট্যাটাস চেক করব কীভাবে?

socialregistry.wb.gov.in-এ অ্যাপ্লিকেশন আইডি, স্বাস্থ্য সাথী নম্বর বা আধার নম্বর দিয়েও স্ট্যাটাস দেখা যায় — মোবাইল নম্বর ছাড়াই। তবে ভবিষ্যতে OTP ও নোটিফিকেশন পাওয়ার জন্য ব্লক/পৌরসভা অফিসে গিয়ে নতুন নম্বর সংশোধন করিয়ে নিন।

৬০ বছর হয়ে গেলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে?

৬০ বছর পূর্ণ হলে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বন্ধ হয়, কিন্তু উপভোক্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজ্য সরকারের বার্ধক্য ভাতা (Old Age Pension) প্রকল্পের আওতায় চলে আসেন। বিস্তারিত দেখুন আমাদের বার্ধক্য ভাতা অনলাইন আবেদন গাইডে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আবেদনের জন্য কাউকে টাকা দিতে হয়?

না। দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে বা পঞ্চায়েত/পৌরসভা অফিসে আবেদন ফর্ম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। এজেন্ট বা দালালকে এক টাকাও দেবেন না — আবেদনের রসিদ (Acknowledgement Slip) অবশ্যই সংগ্রহ করে রাখুন।

সরাসরি সহায়তা ও সরকারি হেল্পলাইন

কোনো সমস্যা বা তথ্যের অস্পষ্টতা থাকলে সরকারি সহায়তা কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।