মূল বিষয়বস্তুতে যান
বাংলাEN

🎓 উৎপাদন ও শিল্প

থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ফ্লাই অ্যাশ কীভাবে বিনামূল্যে পাবেন: WBPDCL/DVC MoU ও ২০২৬-র নতুন নিয়মের গাইড

কোলাঘাট, বাঁকুড়া, সাগরদীঘি, বাঁধনগর থেকে ফ্লাই অ্যাশ সংগ্রহের বৈধ পথ — পাওয়ার প্ল্যান্টের সঙ্গে MoU, শুকনো অ্যাশ বনাম পুকুর-অ্যাশ, ২০২৬-র বিদ্যুৎ মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা (৩০০ কিমি-র মধ্যে বিনামূল্যে সরবরাহ) ও মিডলম্যান ফাঁদ — বাংলা গাইড।

🗓️ প্রকাশ: ১ অক্টোবর, ২০২৬✏️ আপডেট: ১ অক্টোবর, ২০২৬🛡️ যাচাইকৃত: ১ অক্টোবর, ২০২৬📖 ৩ মিনিট পড়া

ফ্লাই অ্যাশ ব্রিক ব্যবসার হিসাবে সবচেয়ে মজার অংশটা এই: মূল কাঁচামালের দাম প্রায় শূন্য — থার্মাল পাওয়ার প্ল্যান্টের কাছে এই ছাই ময়লা, তারা এটি নিষ্কাশনে টাকা খরচ করে। কিন্তু ‘ময়লা’ সংগ্রহ করাও আস্ত একটা প্রক্রিয়া — বৈধ পথ, কাগজপত্র ও ২০২৬-র নতুন নিয়ম জানা জরুরি, নইলে মিডলম্যানের জালে পড়বেন।

নিয়ম আসলে আপনার পক্ষেই

পরিবেশ মন্ত্রকের (MoEFCC) ফ্লাই অ্যাশ ব্যবহার-বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কয়লা/লিগনাইট থার্মাল প্ল্যান্টের ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যের সব নির্মাণ-সংস্থাকে ফ্লাই অ্যাশ-ভিত্তিক পণ্য ব্যবহার করতেই হবে — অর্থাৎ বাংলার প্রায় পুরো ধান-সমভূমি এই ব্যবসার বাজার। আর সরবরাহের দিক থেকে বিদ্যুৎ মন্ত্রকের ৩০ জানুয়ারি ২০২৬-এর সংশোধিত নির্দেশিকা প্ল্যান্টগুলিকে ৩০০ কিমি-র মধ্যের ক্রেতাদের নোটিস দিয়ে বিনামূল্যে অ্যাশ দেওয়ার ও পরিবহন-ভার নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে — ব্যবসার দিক থেকে এটি ভাল খবর, তবে বাস্তব বাস্তবায়ন প্ল্যান্টভেদে ভিন্ন।

পশ্চিমবঙ্গের প্রধান ফ্লাই অ্যাশ উৎস

প্ল্যান্ট অবস্থান কর্তৃপক্ষ
কোলাঘাট (KTPS) পূর্ব মেদিনীপুর WBPDCL
বাঁকুড়া (BKTPP) বাঁকুড়া WBPDCL
সাগরদীঘি মুর্শিদাবাদ WBPDCL
বাঁধনগর উত্তর ২৪ পরগনা WBPDCL
সন্তলডিহ বাঁকুড়া WBPDCL
দুর্গাপুর থার্মাল পশ্চিম বর্ধমান DVC
মেজিয়া পশ্চিম বর্ধমান DVC

প্ল্যান্টের কাছে থাকা = কম পরিবহন-খরচ = প্রতি ইটে বেশি মার্জিন। এ কারণেই কোলাঘাটের পাশের পূর্ব মেদিনীপুর-পাঁশকুড়া বেল্টে নতুন ইট-ইউনিটের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।

MoU পাওয়ার ধাপগুলি

  1. ইউনিটের পরিচয় কাগজ তৈরি করুন — Udyam রেজিস্ট্রেশন, WBPCB-র CTE আবেদনের রেফারেন্স ও প্ল্যান্টের ক্যাপাসিটি-বিবরণ। খালি হাতে যোগাযোগ কাজ করে না।
  2. প্ল্যান্টের অশ-ম্যানেজমেন্ট/ইউটিলাইজেশন সেলে চিঠি — কোম্পানির লেটারহেডে দরকারি টনেজ (দৈনিক/মাসিক), ব্যবহার-উদ্দেশ্য ও সংগ্রহ-পদ্ধতি উল্লেখ করে আবেদন।
  3. সরবরাহ চুক্তি/MoU সই — মেয়াদ, টনেজ, দেওয়া-নেওয়ার স্থান, পরিবহনের দায়িত্ব ও হার স্পষ্ট করে লিখিতভাবে।
  4. গেটপাস ও ওয়েব্রিজ ব্যবস্থা — প্রতি বাল্কারের জন্য গেটপাস; ওজন প্ল্যান্টের ওয়েব্রিজে মেপে রেকর্ড রাখুন।
  5. বাল্কার (টিপার/ট্যাংকার) জোগাড় — শুকনো অ্যাশে এনক্লোজড বাল্কার ভাল (ধুলো-দূষণ ও ক্ষতি কম); ভাড়া প্রতি টন-কিমি হিসেবে বাজেতে ধরুন।

শুকনো অ্যাশ, পন্ড অ্যাশ ও বটম অ্যাশ

  • শুকনো ফ্লাই অ্যাশ (ESP): ইটের মিক্সের আদর্শ — সূক্ষ্ম ও ধারাবাহিক। সিলো থেকে বাল্কারে।
  • পন্ড অ্যাশ: ছাই-জলাশয় থেকে; বিনামূল্যে বা প্রায় বিনামূল্যে মেলে, কিন্তু ভেজা ও অসম দানায় মিক্সে অনিশ্চয়তা। বড় নির্মাণ প্রকল্পের ব্যাকফিলিং-এ বেশি চলে।
  • বটম অ্যাশ: ব্রিকে সরাসরি নয়; বালি/স্টোন ডাস্টের আংশিক বিকল্প হিসেবে কিছু ইউনিট ব্যবহার করে।

মিডলম্যানের তিনটি ফাঁদ

  1. ‘অ্যাশ লক’ কমিশন — মাসিক ‘কমিশন’-এ ছাই লক করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি; প্ল্যান্টে কোনও বৈধ ব্যক্তিগত কমিশন সিস্টেম নেই।
  2. ছাড়া গেটপাস — প্ল্যান্টের গেটে কাগজ ছাড়া ট্রাক ঢুকলে চোরাকুটির দায় আপনার; পুলিশ ও বোর্ডের হাতে।
  3. কম-ওজন বিলিং — নিজস্ব পোর্টেবল ওয়েব্রিজ বা প্ল্যান্টের ওয়েব্রিজ স্লিপের ছবি ছাড়া পেমেন্ট নয়।

হিসাবের সঙ্গে জুড়ে নিন

কাঁচামাল সংগ্রহের এই কাঠামো DPR-এ উল্লেখ করলে ব্যাংক-অ্যাপ্রুভাল সহজ হয় — দেখুন PMEGP ঋণ গাইড। ছাই আসার আগে ছাড়পত্র লাগবে — পড়ুন WBPCB CTE গাইড।

❓ সাধারণ প্রশ্ন

ফ্লাই অ্যাশ আসলে কি বিনামূল্যে পাওয়া যায়?

উৎস থেকে হ্যাঁ — বিদ্যুৎ মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যের ক্রেতাকে পাওয়ার প্ল্যান্টকে অ্যাশ বিনামূল্যে দিতে হয় এবং ২০২৬-র সংশোধিত নির্দেশিকা অনুসারে পরিবহন-ব্যবস্থাও প্ল্যান্টের দায়িত্বে আনার দিকে যাচ্ছে। আপনার আসল খরচ পরিবহন (বাল্কার ট্রাক) — তাই প্ল্যান্টের দূরত্বই আপনার কাঁচামাল-খরচ ঠিক করে।

শুকনো অ্যাশ আর পুকুরের (পন্ড) অ্যাশ — কোনটা ভাল?

ইটের জন্য শুকনো (ড্রাই) ফ্লাই অ্যাশ সবচেয়ে ভাল — সূক্ষ্ম, ধারাবাহিক গুণমানের, সিলো/বাল্কার থেকে সরাসরি আসে। পন্ড অ্যাশ ছাই-জলাশয় থেকে ড্রেজ করা, ভেজা ও দানার মান অসম — দাম কম বা বিনামূল্যে পেলেও মিক্সিং ও গুণমান নিয়ন্ত্রণে ঝামেলা বেশি।

MoU কার সঙ্গে করতে হয়?

যে পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ছাই আনবেন তার অশ-ম্যানেজমেন্ট/ইউটিলাইজেশন সেলের সঙ্গে। রাজ্যের প্ল্যান্টে (কোলাঘাট, বাঁকুড়া, সাগরদীঘি, বাঁধনগর, সন্তলডিহ) WBPDCL-এর কর্তৃপক্ষ, কেন্দ্রীয় প্ল্যান্টে DVC বা NTPC। চিঠি দিয়ে আবেদন, পরে সরবরাহ চুক্তি ও গেটপাস ব্যবস্থা।

দৈনিক কত ফ্লাই অ্যাশ লাগে?

দৈনিক ৮,০০০ ইটের ইউনিটে মিক্সে প্রায় ৬০% ফ্লাই অ্যাশ হিসেবে দিনে আনুমানিক ১৫–২০ টন লাগে — মাসে প্রায় ৪৫০–৬০০ টন। একটি মাঝারি থার্মাল প্ল্যান্ট দিনে হাজার হাজার টন ছাই বের করে, তাই সরবরাহ-সংকটের চেয়ে পরিবহন ও গেটপাস-ব্যবস্থাই মূল চ্যালেঞ্জ।

← সব গাইড