🏛️ পৌরসভা ডেস্ক
e-Grihanaksha: অনলাইনে বিল্ডিং প্ল্যান স্যাংশন (OBPAS) — ডকুমেন্ট, LBS ও ধাপে ধাপে আবেদন
পশ্চিমবঙ্গের পৌরসভায় বাড়ি/দোকান বানানোর প্ল্যান এখন অনলাইনে অনুমোদিত হয় — e-Grihanaksha (OBPAS) পোর্টালে আবেদনের ধাপ, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট (রেজিস্টার্ড ডিড, সাইট প্ল্যান), LBS/স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের প্রয়োজন ও স্ট্যাটাস ট্র্যাকিংয়ের সম্পূর্ণ গাইড।
পৌরসভার এলাকায় বাড়ি বা দোকান বানানোর আগে পৌরসভার অনুমোদিত বিল্ডিং প্ল্যান (নকশা) থাকা বাধ্যতামূলক। আর সেই অনুমোদন এখন আর দপ্তরের ঘুরপাক নয় — নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তরের e-Grihanaksha (OBPAS) পোর্টালে পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে হয়: আবেদন, পরিদর্শক রিপোর্ট, অনুমোদন, এমনকি অকুপেন্সি সার্টিফিকেট পর্যন্ত।
তবে এটি পৌর প্রক্রিয়াগুলির মধ্যে সবচেয়ে কারিগরি — ডকুমেন্ট, নকশা, ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষর, সব ঠিক না থাকলে আবেদন বারবার ফেরত আসে। এই গাইডে পুরো পথটা পরিষ্কার করে দেখাচ্ছি।
সংক্ষেপে: প্ল্যান তৈরি ও স্বাক্ষর করান এমপ্যানেলড LBS/ইঞ্জিনিয়ারের মাধ্যমে → obpsudma.wb.gov.in-এ রেজিস্টার করে Common Application Form-এ ডকুমেন্টসহ আবেদন → অনলাইন ফি → স্ট্যাটাস ট্র্যাক → স্যাংশন ডাউনলোড → নির্মাণ শেষে অকুপেন্সি সার্টিফিকেট।
১. আবেদনের আগে যা হাতে থাকতে হবে
| ডকুমেন্ট | কেন লাগে |
|---|---|
| রেজিস্টার্ড ডিড (জমির দলিল) | মালিকানা প্রমাণ — পোর্টালে আপলোড করতেই হবে |
| ভূমি শ্রেণি/মিউটেশন পরচা | জমির প্রকৃতি ও মালিকানার রেকর্ড যাচাইয়ে |
| সাইট প্ল্যান ও বিল্ডিং প্ল্যান | অবশ্যই এমপ্যানেলড LBS বা স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার তৈরি ও স্বাক্ষরিত |
| ভূমি কর/হোল্ডিং ট্যাক্সের রসিদ | জমির দাবি মালকড়া শূন্য আছে কি না যাচাইয়ে |
| আধার কার্ড, ছবি, মোবাইল নম্বর | আবেদনকারীর তথ্য ও OTP ভেরিফিকেশন |
| প্রয়োগ্য ক্ষেত্রে: নৈর্বাচনিক প্রতিবন্ধকতা ছাড়পত্র, প্রতিবেশীর সম্মতি | স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী |
⚠️ সবচেয়ে বড় ভুল: নকশা নিজে বা বেনামি ‘নকশাওয়ালা’ এঁকে জমা দেওয়া। পোর্টালে প্ল্যান গ্রহণ করা হয় শুধু পৌরসভায় এমপ্যানেলড LBS (Licensed Building Surveyor) বা যোগ্য ইঞ্জিনিয়ারের স্বাক্ষর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ — এঁদের খুঁজতে পৌরসভার বিল্ডিং শাখায় বা পোর্টালের এমপ্যানেলমেন্ট তালিকায় দেখুন।
২. ধাপে ধাপে অনলাইন আবেদন
ধাপ ১: obpsudma.wb.gov.in (e-Grihanaksha / OBPAS) পোর্টালে Citizen Registration করুন — মোবাইল ও OTP দিয়ে।
ধাপ ২: New Building Plan Application বেছে আপনার পৌরসভা/পৌরসংস্থা ও ওয়ার্ড নির্বাচন করুন। প্রয়োজনীয় তথ্য একটি Common Application Form (CAF)-এ পূরণ হয়।
ধাপ ৩: LBS/ইঞ্জিনিয়ার প্রস্তুত করা প্ল্যান (ড্রয়িং ফাইল) ও ডকুমেন্ট আপলোড করুন। প্ল্যানে FAR (Floor Area Ratio), পিছিয়ে রাখার জায়গা (setback), পার্কিং — বিল্ডিং রুল মেনে থাকতে হবে।
ধাপ ৪: ফি-র হিসাব দেখে অনলাইনে পরিশোধ করুন এবং আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ৫: পোর্টালেই স্ট্যাটাস ট্র্যাক করুন — পরিদর্শক রিপোর্ট, কোনো ঘরে ত্রুটি ধরা পড়লে সংশোধনী জমা দেওয়ার নোটিশ, সব অনলাইনেই আসে।
ধাপ ৬: অনুমোদিত হলে স্যাংশন লেটার ও অনুমোদিত প্ল্যান ডাউনলোড করুন। নির্মাণ শেষ হলে একই আবেদনের ধারায় অকুপেন্সি সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করুন।
৩. সাধারণ কারণে আবেদন ফেরত আসে কেন
- প্ল্যানে FAR বা setback নিয়ম মানা হয়নি — LBS-কে পুনর্গণনা করান।
- ডিড ও জমির রেকর্ডে নামের অমিল — আগে মিউটেশন/নামজারি ঠিক করুন।
- নকশার স্বাক্ষরকারী এমপ্যানেলড নয় — এমপ্যানেলমেন্ট তালিকা যাচাই করুন।
- হোল্ডিং ট্যাক্সের বকেয়া — জমার আগে রসিদ নিয়ে রাখুন।
- ভুল ওয়ার্ড/পৌরসভা নির্বাচন — ঠিকানা অনুযায়ী সঠিক ULB বেছে নিন।
৪. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
১. কোলকাতা (KMC) এলাকাতেও এই পোর্টাল খাটে?
KMC-র নিজস্ব আলাদা নিয়ম ও প্রক্রিয়া আছে; e-Grihanaksha মূলত পৌরসভা ও অন্যান্য ULB-র জন্য। কোলকাতায় KMC বিল্ডিং বিভাগের নিয়ম অনুসরণ করুন।
২. দুই তলা ছোট বাড়ির জন্যও এত প্রক্রিয়া?
হ্যাঁ — পৌর এলাকায় যেকোনো নির্মাণের অনুমোদিত প্ল্যান বাধ্যতামূলক। ছোট বাড়িতে ফি ও প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হয়।
৩. পুরনো বাড়ির সংস্কারে কি প্ল্যান লাগবে?
বাহ্যিক কাঠামো, তলা বাড়ানো বা ব্যবহার বদলালে হ্যাঁ। শুধু রং বা ভেতরের মামুলি সংস্কারে সাধারণত লাগে না — সন্দেহ হলে পৌরসভার বিল্ডিং শাখায় জিজ্ঞাসা করুন।
৪. এজেন্ট বলছে ‘কানেকশন দিয়ে দ্রুত অনুমোদন’ করিয়ে দেবে?
অনুমোদন পোর্টালের নিয়মেই হয়। ‘কানেকশনের’ নামে টাকা দেওয়া প্রতারণা — স্যাংশনের আগেই বিপুল টাকা চাইলে সাবধান হোন; ফি পোর্টালেই দেওয়া হয়।
৫. জালিয়াতি থেকে সাবধান
🛡️ ‘অনুমোদন কাগজ’ নাকি জাল? অনলাইন স্যাংশন সবসময় পোর্টালের আপনার অ্যাকাউন্টেই দেখা যায় — শুধু এজেন্টের হাতে কাগজ থাকলে বিশ্বাস করবেন না। পোর্টালে লগইন করে স্যাংশনের অবস্থা নিজের চোখে দেখুন।
সম্পর্কিত গাইড: ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স (CoE)-র অনলাইন আবেদন ও নবায়ন এবং জমির মালিকানা রেকর্ড ঠিক করতে হোল্ডিং ট্যাক্স ও প্রপার্টি মিউটেশনের গাইড পড়ুন।
❓ সাধারণ প্রশ্ন
e-Grihanaksha কী?
পশ্চিমবঙ্গের নগরোন্নয়ন ও পৌর বিষয়ক দপ্তরের অনলাইন বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন ব্যবস্থা (OBPAS) — পৌরসভা/পৌরসংস্থা এলাকায় নতুন নির্মাণ, সংস্কার বা অকুপেন্সি সার্টিফিকেটের আবেদন অনলাইনে জমা ও ট্র্যাক করা যায়, অনুমোদনও অনলাইনেই আসে।
LBS বা লাইসেন্সড বিল্ডিং সার্ভেয়ার কেন লাগবে?
অনলাইন প্ল্যান জমা দেওয়ার আগে নকশাটি পৌরসভায় এমপ্যানেলড লাইসেন্সড বিল্ডিং সার্ভেয়ার (LBS) বা উপযুক্ত স্ট্রাকচারাল/জিও-টেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারকে তৈরি ও স্বাক্ষর করাতে হয়। এঁদের ছাড়া জমা দেওয়া প্ল্যান গ্রহণযোগ্য হয় না — এটিই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
বাড়ির প্ল্যান অনুমোদনে কত টাকা খরচ হয়?
ফি পৌরসভার শ্রেণি, জমির মাপ ও নির্মাণের আয়তনের উপর নির্ভর করে — নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা নেই। পোর্টালে আবেদনের সময়ে ফি-র হিসাব দেখানো হয় এবং অনলাইনে পরিশোধ করা যায়।
FAR (Floor Area Ratio) কী?
FAR নির্ধারণ করে জমির মাপ অনুযায়ী সর্বোচ্চ কত আয়তনের তলা বানানো যাবে। পৌরসভার বিল্ডিং রুল অনুযায়ী সর্বোচ্চ FAR নির্দিষ্ট — LBS/ইঞ্জিনিয়ারই আপনার জমির জন্য সঠিক FAR হিসাব করে প্ল্যান তৈরি করবেন। FAR ছাড়িয়ে বানালে অনুমোদন আটকে যায়।
বাড়ি বানানো শেষে আর কী করতে হবে?
নির্মাণ অনুমোদিত প্ল্যান মেনে শেষ হলে একই পোর্টালে **Occupancy Certificate**-এর জন্য আবেদন করুন। বিদ্যুৎ সংযোগ, বাড়ি বিক্রি বা লোনের সময়ে এই সার্টিফিকেট লাগে — অনেকেই এটি এড়িয়ে যান, পরে সমস্যায় পড়েন।