মূল বিষয়বস্তুতে যান
বাংলাEN
🏛️পশ্চিমবঙ্গ সরকারি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প

বাংলা আবাস যোজনা (Bangla Awas Yojana / PM Awas 2026-2027): নতুন তালিকা, যোগ্যতার শর্ত ও ₹১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পাওয়ার নিয়ম

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাংলা আবাস যোজনা ২০২৬-২০২৭ প্রকল্পে বাড়ি তৈরির জন্য ₹১,২০,০০০ আর্থিক অনুদান পাওয়ার নতুন লিস্ট চেক, সার্ভে ভেরিফিকেশন এবং আবেদন নির্দেশিকা।

আর্থিক অনুদান / সহায়তা৩টি কিস্তিতে মোট ₹১,২০,০০০ (সমতল অঞ্চল) ও ₹১,৩০,০০০ (পাহাড়ি অঞ্চল)
প্রশাসনিক দপ্তরপঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার
আবেদনের মাধ্যমগ্রাম পঞ্চায়েত সার্ভে / দুয়ারে সরকার / BDO অফিস
অফিসিয়াল হেল্পলাইন1800-11-6446 / 033-2334-0041
অফিসিয়াল পোর্টালে যান ↗

আবেদন করার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস মিলিয়ে নিন

ক্যাম্পে বা অফিসে যাওয়ার আগে নিচের প্রতিটি নথিপত্র প্রস্তুত করে টিক মার্ক দিয়ে যাচাই করে নিন:

পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ ও শহরতলির অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর, গৃহহীন এবং কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারগুলির জন্য পাকা ছাদের স্থায়ী বাসস্থান নিশ্চিত করতে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে বাংলা আবাস যোজনা (Bangla Awas Yojana - BAY / PMAY-G 2026-2027)।

২০২৬-২০২৭ সালের নতুন নির্দেশিকা অনুসারে যোগ্য উপভোক্তাদের সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (Direct Benefit Transfer - DBT) বাড়ি তৈরির জন্য সমতল এলাকায় ₹১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা এবং পাহাড়ি/জঙ্গলমহল এলাকায় ₹১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।


বাংলা আবাস যোজনা ২০২৬-২০২৭ এর মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা

  1. সম্পূর্ণ বিনামূল্যে অনুদান: এই টাকা কোনো ঋণ বা ধার নয়; এটি রাজ্য ও সরকারের দেওয়া সম্পূর্ণ এককালীন অনুদান যা ফেরত দিতে হয় না।
  2. ৩টি ধাপে কিস্তির টাকা প্রদান:
    • ১ম কিস্তি (Plinth Level / ভিত্তি নির্মাণ): ₹৬০,০০০ (বা ₹৪০,০০০ জেলা ভেদে)
    • ২য় কিস্তি (Lintel Level / দেওয়াল ও ছাদ পর্যায়): ₹৫০,০০০
    • ৩য় কিস্তি (Finishing / ছাদ ঢালাই, দরজা-জানালা ও শৌচাগার): ₹১০,০০০
  3. অতিরিক্ত ১০০ দিনের কাজের মজুরি: আবাস যোজনার বাড়ি তৈরির সময় উপভোক্তা ১০০ দিনের কাজের (MGNREGS / কর্মশ্রী) অধীনে প্রায় ৯০-৯৫ দিনের অতিরিক্ত অদক্ষ শ্রমের মজুরি (প্রায় ₹২১,০০০+) পেয়ে থাকেন।
  4. শৌচাগার তৈরির অতিরিক্ত অনুদান: মিশন নির্মল বাংলা / স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীনে অতিরিক্ত ₹১২,০০০ শৌচাগার নির্মাণের জন্য পৃথকভাবে পাওয়া যায়।

কারা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য (Eligibility Criteria)

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • পরিবারের নিজস্ব কোনো পাকা বাড়ি (কংক্রিটের ছাদযুক্ত পাকা ঘর) থাকা চলবে না।
  • পরিবারকে কাঁচা বাড়ি (মাটির দেওয়াল, খড়/টিনের ছাউনি), পলিথিন ঢাকা ঘর অথবা সম্পূর্ণ গৃহহীন হতে হবে।
  • পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী (কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার) বা সরকারি পেনশনভোগী হওয়া চলবে না।
  • পরিবারের কোনো সদস্যের নামে চার চাকার গাড়ি (Four Wheeler), মোটর বোট বা মেকানাইজড কৃষি সরঞ্জাম থাকা চলবে না।
  • আবেদনকারী বা পরিবারের কোনো সদস্য আয়কর (Income Tax) প্রদানকারী হওয়া চলবে না।
  • মাসিক গড় পারিবারিক আয় ₹১৫,০০০-এর নিচে হওয়া বাঞ্ছনীয়।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র (Required Documents)

আবাস যোজনার সার্ভে ভেরিফিকেশন ও তালিকাভুক্তির জন্য নিম্নলিখিত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন:

  1. পরিবারের প্রধান ও সকল সদস্যের আধার কার্ডের জেরক্স।
  2. আবেদনকারীর নামে থাকা Aadhaar-Linked ব্যাংক পাসবইয়ের জেরক্স (DBT চালু থাকতে হবে)।
  3. যে জমিতে বাড়ি তৈরি হবে তার জমির পরচা/খতিয়ান বা পঞ্চায়েতের শংসাপত্র।
  4. পরিবারের ডিজিটাল রেশন কার্ড।
  5. পরিবারের ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড (Job Card)।
  6. বর্তমান কাঁচা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে পরিবারের সদস্যদের রঙিন ছবি।
  7. সচল মোবাইল নম্বর।

আবাস যোজনার নতুন লিস্ট ২০২৬-২০২৭ চেক করার সহজ পদ্ধতি

আপনার বা আপনার পরিবারের নাম আবাস যোজনার নতুন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না, তা অনলাইনে খুব সহজেই চেক করা যায়:

পদ্ধতি ১: PMAY-G অফিসিয়াল পোর্টালে সার্চ

  1. কেন্দ্রীয় গ্রামীণ আবাস পোর্টাল pmayg.nic.in-এ প্রবেশ করুন।
  2. মেনু বার থেকে ‘Awaassoft’ অপশনে গিয়ে ‘Report’ সিলেক্ট করুন।
  3. পরবর্তী পেজে ‘Social Audit Reports’ সেকশনের নিচে ‘Beneficiary details for verification’ অপশনে ক্লিক করুন।
  4. এরপর ফিল্টারে ড্রপডাউন থেকে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন করুন:
    • রাজ্য: West Bengal
    • আপনার জেলা (District)
    • আপনার ব্লক (Block)
    • আপনার গ্রাম পঞ্চায়েত (Gram Panchayat)
    • আর্থিক বছর: 2026-2027 (বা পূর্ববর্তী 2025-2026)
    • স্কিম: Pradhan Mantri Awaas Yojana Gramin / Bangla Awas
  5. স্ক্রিনে থাকা ক্যাপচা কোডটি সমাধান করে ‘Submit’ করলেই আপনার পঞ্চায়েতের সমগ্র অনুমোদিত উপভোক্তাদের নাম, স্যাংশন নম্বর এবং কিস্তির তালিকা দেখতে পাবেন।

পদ্ধতি ২: স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত বা BDO অফিস

যদি অনলাইন তালিকায় নাম দেখতে কোনো প্রযুক্তিগত অসুবিধা হয়, তবে আপনার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস বা ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (BDO) অফিসের নোটিশ বোর্ডে টাঙানো চূড়ান্ত আবাস তালিকা (Final Priority List) দেখে নিতে পারেন।


সার্ভে ভেরিফিকেশন ও জিও-ট্যাগিং (Geo-Tagging) কী?

আবাস যোজনার টাকা ছাড়ার পূর্বে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ দল (Survey Team) উপভোক্তার বাড়ি সরাসরি পরিদর্শন করে:

  1. প্রথম জিও-ট্যাগিং: বাড়ি তৈরির পূর্বে বর্তমান কাঁচা ঘরটির অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশ (GPS Location) সহ ছবি তোলা হয়।
  2. দ্বিতীয় জিও-ট্যাগিং: প্রথম কিস্তির টাকায় দেওয়াল ও লিন্টেল লেভেল পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হলে দ্বিতীয় ছবি তোলা হয়, যার ভিত্তিতে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা একাউন্টে জমা পড়ে।
  3. চূড়ান্ত জিও-ট্যাগিং: ছাদ ঢালাই, প্লাস্টার এবং ঘরের সামনে নির্দিষ্ট ‘বাংলা আবাস যোজনা লোগো ও উপভোক্তার নাম’ খোদাই করা ফলক বসিয়ে সম্পূর্ণ বাড়িটির ছবি পোর্টালে আপলোড করার পর শেষ কিস্তির টাকা রিলিজ হয়।

সাধারণ জিজ্ঞাসা ও উত্তর (FAQ)

১. টাকা কি সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢোকে?

হ্যাঁ, কোনো মধ্যস্থতাকারী বা এজেন্টের প্রয়োজন নেই। সরাসরি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ট্রেজারি থেকে উপভোক্তার আধার লিঙ্কড ব্যাংক অ্যাকাউন্টে DBT-র মাধ্যমে ৩টি কিস্তিতে টাকা জমা পড়ে।

২. যদি তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও সার্ভেতে বাতিল হয়ে যায়?

যদি ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কারো নাম বাদ পড়ে, তবে উপভোক্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মহকুমা শাসক (SDO) বা জেলাশাসকের (DM) দফতরে গ্রিভেন্স রিড্রেসাল সেলে লিখিত অভিযোগ জানাতে পারেন।

৩. বাড়ি তৈরির জন্য কতদিন সময় পাওয়া যায়?

প্রথম কিস্তির টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট হওয়ার দিন থেকে সর্বোচ্চ ১২ মাসের মধ্যে বাড়ি তৈরির সমস্ত কাজ সম্পূর্ণ করার নিয়ম থাকে।


সম্পর্কিত নিবন্ধ: গ্রামীণ পরিবারের অন্যান্য সুবিধা জানুন — কৃষক বন্ধু প্রকল্পের বিস্তারিত গাইড ও লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের গাইড।

সরাসরি সহায়তা ও সরকারি হেল্পলাইন

কোনো সমস্যা বা তথ্যের অস্পষ্টতা থাকলে সরকারি সহায়তা কেন্দ্রে সরাসরি যোগাযোগ করুন।